‘তেল সংকট’ আতঙ্কে পাবনার পাম্পগুলোতে বাইকারদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৬:৪২ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৬
পাবনার একটি পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেল সংকটের আতঙ্কে পাবনায় হঠাৎই তেল পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল সংকটে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১০টার পর পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা।

জানা যায়, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গত কয়েকদিনের যুদ্ধের কারণে তেল নিয়ে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে মানুষের মধ্যে। এমন ভাবনা থেকেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাইকারা বেশি করে তেল নিতে থাকেন। বিশেষ করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল ও সন্ধ্যা নামতেই পাবনা শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন, অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন, রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকাসহ অধিকাংশ পাম্পে বাইকারদের ভিড় বাড়তে থাকে। এ সময় বাইকাররা স্বাভাবিক চাহিদার কয়েকগুণ বেশি তেল নিতে চান।

রাতে এসব পাম্পে দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। পরে আজকের মজুত অনুযায়ী ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া বন্ধ করে দেন পাম্প মালিকরা। কয়েক ঘণ্টায় তেল ফুরিয়ে গেছে দাবি করে দু-একটি বড় পাম্প ছাড়া অধিকাংশই বন্ধ করে দেয়। সবশেষ ওই দু-একটি পাম্প রাত ১০টা অবধি তেল দিতে পারলেও ফুরিয়ে যাওয়ায় এরপর আর তেল দিতে পারেনি। এতে তেল না পেয়ে ফিরে যান অনেকে।

রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সাইমন ও রনি জানান, হঠাৎই শুনেছেন কাল থেকে তেল নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে বাইক নিয়ে এসেছেন। এমনি সময়ে সাধারণত ট্যাংক ফুল লোড না দিলেও পরে পাওয়া যাবে না আশঙ্কায় আজ ফুল লোড দিতে চেয়েছেন তারা। কিন্তু ২০০/৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না।

শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়া সিয়াম মাহমুদ বলেন, ঘুরে দেখলাম শহরের ছোট ছোট পাম্প বন্ধ করে দিয়েছে। পরে ওই পাম্পে গিয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকার তেল নিয়েছি। সেখানে প্রায় একশোর বেশি গাড়ির সিরিয়াল ছিল। আমার আগে অন্তত ৬০-৭০টি বাইক ছিল। পরে তেল পাওয়া যাবে না, এই ভয়েই ভিড় করছে সবাই।

jagonews24

তেল না পেয়ে ফিরে আসা হাবিবসহ কয়েকজন জানান, তারা মোটরসাইকেল কাজে ব্যবহার করেন, ঘোরাফেরার জন্য নয়। নিয়ম করে প্রয়োজনমতো তেল ভরেন। আজ তেল তুলতে এসে দেখি এই অবস্থা। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তেল নাকি আজকের মতো শেষ।

অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইসরাফিল বলেন, আজ হঠাৎই ব্যাপক ভিড়। আমরা সবশেষ রাত ১০টা অবধি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার করে দিয়েছি। অতিরিক্ত চাপের কারণে এরপর আজকের মতো তেল ফুরিয়ে গেছে। কাল (শুক্রবার) ভোরে আবার তেল আসার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল হোসেন রেয়ন বলেন, ১৪ দিনের তেল সরকারের কাছে মজুত রয়েছে- এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজন ছাড়াও পাম্পে ভিড় জমিয়ে অতিরিক্ত তেল নিচ্ছে। ফলে অনেক পাম্পে আপাতত তেল শেষ হয়েছে হয়তো। তবে এটি তেমন কোনো সংকট নয়। পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কাল থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল মিলবে। তবে খোলা বাজারিদের কাছে তেল বিক্রি একদম বন্ধ রাখার ব্যাপারে নির্দেশ রয়েছে।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/ইএ 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।