সৌদির খেজুর ফলছে গাজীপুরে


প্রকাশিত: ০৬:৫২ এএম, ১০ এপ্রিল ২০১৭

বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও উন্নত জাতের খেজুর চাষ করা সম্ভব সেটি কয়েক বছর আগেই প্রমাণ করেছেন এ দেশের কয়েকজন সফল চাষি। তাই অনেকেই উৎসাহী হয়ে নতুন নতুন খেজুর বাগান গড়ে তুলছেন। খেজুর চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় চাষিরাও এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

গাজীপুর সদর উপজেলর পিরুজালী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম বাদল খেজুর চাষাবাদকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি বাগানের পাশাপাশি খেজুর চারা তৈরির নার্সারি করেছেন। যেখানে চারা বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যারা খেজুর চাষাবাদে আগ্রহী তাদের কাছে চারা বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণ দিয়ে দিচ্ছেন তিনি। শুধু চারা বিক্রির জন্য নয়, মানুষ যাতে খেজুর বাগান করার নিয়ম সর্ম্পকে জানতে পারে সেজন্য ‘সৌদি ডেট পাম ট্রিস ইন বাংলাদেশ’ নামের নার্সারিটি গড়েছেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বাদল জানান, ২০১৪ সালে ১৮টি চারা গাছ সংগ্রহ করে ১০ কাঠা জমি নিয়ে প্রথমে বাগান শুরু করেন। নাম দেন ‘সৌদি ডেট পাম ট্রিস ইন বাংলাদেশ’। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে তিনটি, দুবাই থেকে ১০টি, ভারত থেকে দুইটি ও কুয়েত থেকে দুই বছর বয়সী তিনটি চারা বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। ১৮টি চারা ক্রয় করতে সাত লাখ ২০ হাজার টাকা লেগেছিল বলে জানান তিনি।

Gazipur

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আড়াই একর জমিতে ১০০ বড় গাছসহ ছোট, মাঝারি সাইজের ছয় হাজার চারা গাছ রয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে দুই হাজার চারা গাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চার হাজার গাছ বিদেশ থেকে উন্নতমানের খেজুর এনে এর বীজ থেকে নিজস্ব নার্সারিতে পলিব্যাগে রোপণ করে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে তার বাগানে বড় ১১টি ও মাঝারি সাইজের মোট ৩০০টি গাছে খেজুর ধরেছে এবং ছয়টি জাতের খেজুর চারা রয়েছে। এর মধ্যে আজওয়া, আনবারা, সুক্কারি, রুথান, বারহি ও মরিয়ম জাতের চারা রয়েছে।

নজরুল ইসলাম বাদল জানান, প্রথম বছর পাওয়া খেজুরের স্বাদ এবং মান দুটোই ছিল মানসম্মত। ভালো আকারে খেজুর হয়েছিল। গাছের পরিপক্কতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলন বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাজার সম্প্রাসারণের বিষয়ে নজরুল জানান, তার হাত দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় খেজুর গাছের বাগান হচ্ছে। যেসব গাছ রোপণ করা হয়েছে, তার বৃদ্ধিও ভালো। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফলন হবেই।

তার মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া যে খেজুর চাষের জন্য উপযোগী তা দেশি খেজুরগাছই প্রমাণ করে। আর সৌদির জাতগুলোকে একটু আলাদা ভাবে যত্ন নিলে যে ভালো ফলন আসে তা আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছি।

Gazipur

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের গাজীপুরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ রেজা বলেন, আমি কয়েকবার নজরুলের খেজুর বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি। খেজুর বাগানের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময়। এ ক্ষেত্রে মাতৃগাছ থেকে শাখা কলম পদ্ধতির মাধ্যমে চারা নির্বাচন করতে হবে। তাতে ফলনের সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, খেজুর চাষের সম্ভাবনা বা সফলতা এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ইতোমধ্যেই দেশের মাটিতে খেজুর কীভাবে উৎপাদন সম্ভব তা গবেষণা করছেন। বিষয়টি এখন আমাদের কাছেও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।