গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই সাংবাদিকের মানববন্ধনে বাধা
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার প্রতিবাদে ডাকা মানববন্ধনে বাধা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
সেই সঙ্গে উল্টো ওই সাংবাদিকের বিপক্ষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। তাদের সমর্থিত দুই তিনজন সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে এই অপচেষ্টা চালান তারা। তাদের বাধার মুখে কালকিনির সাংবাদিকরা পূর্বঘোষিত মানববন্ধন করতে পারেনি।
গতকাল সোমবার রাতে ফেসবুকে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবে ঢুকতে ও মানববন্ধনে বাধা দেয়া হয়।
এ সময় মাদারীপুরে থেকে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ কালকিনির একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধির পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রেসক্লাব দখল করে নেয়। পরে তারা পুরনো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে নির্যাতনের শিকার কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে বক্তব্য দেয় তারা।
কালকিনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম মিলন জানান, প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৫৩ জন। প্রতি বছর এর কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জুনের শেষের দিন নির্বাচন হওয়ার কথা।
অথচ রাজনৈতিক প্রভাবে মাত্র দুই তিনজন সাংবাদিক গঠনতন্ত্র না মেনে নিজেদের সভাপতি ও সেক্রেটারি ঘোষণা দিয়ে গত রাতে কমিটি ঘোষণা করে নির্যাতিত সাংবাদিকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এ বিষয়টিতে একেবারে আশ্চর্য হয়েছি আমরা। তারা মাত্র তিন-চারজন সাংবাদিক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতের পুতুল হয়ে গেছে। যার কারণে আজকে মানববন্ধনে বাধা দেয়ার মতো কাজও সম্ভব হল।
কালকিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান বলেন, চর দখলের মতো প্রেসক্লাব দখল হয় আজ দেখলাম। গতকাল রাতে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে আজ সকালে রাজনৈতিক দলের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে আমাদের প্রেসক্লাব দখল করা হয়। এটি দিয়ে তারা প্রমাণ করে দেখালো তাদের ষড়যন্ত্রের গভীরতা কতটুকু। এভাবে কী নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়া ও প্রেসক্লাব দখল করা যায়!
মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মাদারীপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শাহজাহান খানসহ প্রেসক্লাবের সদস্যদের কাছে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন।
মাদারীপুরের কালকিনির সাংবাদিকদের পক্ষে সভাপতি ও যুগান্তরের সাংবাদিক এইচএম মিলন, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক জাফরুল হাসান, সহ-সভাপতি ও এশিয়ান টিভির সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আমাদের সময় পত্রিকার সাংবাদিক কায়োকোবাদ শামীম, অর্থ সম্পাদক ও নয়াদিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইত্তেফাকের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান দুলাল, দফতর সম্পাদক ও ভোরের ডাক পত্রিকার সাংবাদিক মেহেদী হাসান শাওন, প্রচার সম্পাদক ও কালকিনি বার্তার সাংবাদিক নাসিরউদ্দিন লিটন, কার্যকরী সদস্য ও মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ও খবরপত্র পত্রিকার সাংবাদিক বাহাউদ্দিন শাহিদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও মানবকণ্ঠের সাংবাদিক সাইমুন ইসলাম। সদস্য ও দৈনিক করতোয়ার প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ, ভোরের কাগজের মাসুদ আহমেদ কাউয়ুম, আজকের প্রত্যাশার মহিউদ্দিন বাবুসহ প্রেসক্লাবের ৪৫ জন সাংবাদিক এই বিষয়ে নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তারা রাজনৈতিক পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের মানববন্ধনে বাধা দিয়েছে। এমন একটি বিষয় যেখানে সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছে অথচ সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতে দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শাহজাহান খান বলেন, কালকিনিতে রাতের আঁধারে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তা বেআইনি। দুই একজন সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় ক্ষমতাবানরা এই সুযোগ পেয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া সাংবাদিক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি কীভাবে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলতে রাজি নই।
গত ৭ এপ্রিল শুক্রবার পূর্ব এনায়েতনগরে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান বাদল তালুকদার কর্তৃক যায়যায় দিন পত্রিকার কালকিনি প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম নির্যাতিত হয়।
তাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করায় ৯ এপ্রিল রোববার হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে নির্দেশনা প্রদান করে।
এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/জেআইএম