ফুল চাষে ভাগ্য বদল আব্দুস সালামের


প্রকাশিত: ০৮:১৮ এএম, ১২ এপ্রিল ২০১৭

প্রথমে নিজের পাঁচ কাঠা জমিতে ফুল চাষের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু। দিন বদলের পালায় এখন লিজকৃত ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ করছেন। সেখানে প্রতিদিন ৩/৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। ফুল চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন নওগাঁ সদর উপজেলার লখাইজানি গ্রামের আব্দুস সালাম।

গ্রামের নার্সারি মালিক ছলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। তার নার্সারি বাগান থেকে ফুল এবং চারাগাছ বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্যানে করে আনা-নেয়া করতেন আব্দুস সালাম। ছলিম উদ্দিনের পরামর্শে ২০০১ সালে নিজের পাঁচ কাঠা জমিতে প্রথম গাঁদা ফুলের চাষ করেন তিনি।

সে বছর বেশ ভাল লাভ থাকে। লাভের টাকার সঙ্গে পরের বছর ধার করে টাকা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ফুল চাষ শুরু করেন আব্দুস সালাম। এভাবে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি ও দাম ভাল পাওয়ায় ফুল চাষ আরও বেড়ে যায়। এখন ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ করেন তিনি।

Naogaon

জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে ফুল ব্যবসায়ীরা ফুল নিয়ে যান। গোলাপ ১০০টি ১৫০-২০০ টাকা, রজনিগন্ধা ১০০টি ২০০-২৫০ টাকা, গাঁদা এক হাজার ৩০০-৩৫০ টাকা। সারা বছরই ফুল বিক্রি হলেও বিশেষ দিন বিশ্ব ভালবাসা, পহেলা বৈশাখ, ইংরেজি নববর্ষ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরে ফুলের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বৃদ্ধি পায়। একদিন পর পর জমি থেকে ফুল উঠাতে হয়।

আব্দুস সালাম বলেন, নিজের নামটাও ঠিকমতো লিখতে পারি না। সকলের সহযোগিতায় ও নিজের বুদ্ধি এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেকটাই এগিয়েছি। ফুল চাষ করেই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

পরিবারের চারজন সদস্য। বড় ছেলে সোহেল ফুলের বাগান দেখাশুনা করে এবং ছোট ছেলে স্বাধীন নবম শ্রেণিতে পড়ছে। বড় ছেলের নামে ‘সোহেল নার্সারি নামকরণ করা হয়েছে।

Naogaon

তিনি আরও বলেন, ফুল ব্যবসার লাভ থেকে বাড়ি করার জন্য ভাইয়ের জমির অংশ কিনে নিয়েছি। সেখানে বাড়ি করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া আরও একটু ফসলি জমি কেনা হয়েছে।

আব্দুস সালাম বলেন, এবার পহেলা বৈশাখে ফুলের চাহিদা বেশ ভালো। আর সে মোতাবেক ফুল প্রস্তুত করা হয়েছে। বাগানে গোলাপ, রজনিগন্ধা, গাঁদা ও গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন। আগামী বছরে রোপণের জন্য গোলাপের ভালো জাতের ১০ হাজার কাটিং চারা প্রস্তুত করছেন।

প্রতিবেশী এছাহাক বলেন, এক সময় কৃষি কাজ ও ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতেন সালাম। ফুলের চাষ করার পর থেকে তার সংসার ভালো চলছে। এখন তার বাগানেই লোকজন কাজ করছে।

আব্বাস আলী/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।