আছিয়ার দারিদ্র্য জয়
রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করে প্রতিদিনের মজুরির টাকা থেকে চার বছরে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করে শাড়ি, লুঙ্গি ও থান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। সেই কাপড় গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। কঠিন সংগ্রাম করে জয় করেছেন দারিদ্র্য। আরও ৩০ জন নারীকে স্বাবলম্বী করছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তালুক ফলগাছা গ্রামের আছিয়া বেগম।
আছিয়া বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৩ বছর বয়সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের দিনমজুর নুরু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় স্বামী ফেলে পালিয়ে যান। পরে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তাতে ঠিকমত ভরণপোষণ হতো না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেন।
আছিয়া বেগম ২০০৪ সালে কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজারে একটি কাপড়ের দোকান দেন। আছিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে নাজমুল হুদা ও ছেলের বউ শিখা বেগম ব্যবসা দেখাশুনা করেন। বর্তমানে তার মাসিক আয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এই আয়ে সাত সদস্যের সংসার চলছে।
আছিয়া বেগম নিজে স্বাবলম্বী হয়ে সন্তষ্ট নন। তাই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অভাবী ৩০ জন দরিদ্র, বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া ও বিধবা নারীকে কাজ দেন। তারা প্রতিদিন আছিয়ার দোকান থেকে পাইকারি দরে কাপড় কিনে নিচ্ছেন। আছিয়ার মত তারাও সেসব ফেরি করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করছেন। তিনি ওইসব নারীদের নাম দিয়েছেন ‘অপরাজিতা’।
প্রতিজন অপরাজিতা ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেন। সেইসব অপরাজিতারা এখন সংসারে বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছেন। ছেলেমেয়েরা স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করছে। অথচ আগে স্বামীর একার রোজগারে সংসারে সবসময় অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
আছিয়া বেগম বলেন, অভাব কী আমি বুঝি। তাই দরিদ্র নারীদেরকে কাজ দেই। তাদেরকে ব্যবসার পরামর্শ দেই। বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করলে যে কেউ সাফল্য অর্জন করতে পারে। আমরাও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি, তার প্রমাণ আমি নিজেই।
বামনডাঙ্গা বাজার এলাকার সমাজসেবক নাদিম হোসেন বলেন, আছিয়া বেগমের জীবন দুঃখে গাঁথা। পরিশ্রমের ফলে নিজে যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি আরও অনেক নারীকে স্বাবলম্বী করতে প্রতিনিয়তই চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এফএ/এমএস