বাবা-মাকে হারিয়েও ভালো আছে ওরা ৪৪ জন


প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির চতুর্থ বর্ষপূর্তি আগামীকাল সোমবার। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভয়াবহ ওই ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের ৪৪ জন শিশু রয়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের অরকা-হোমস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। এখানে বাবা-মায়ের স্নেহ-মমতায় বড় হচ্ছে শিশুরা।

শিশুদের লেখাপড়াসহ পুনর্বাসন দায়িত্ব নিয়েছে অরকা-হোমস (ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন) নামের প্রতিষ্ঠানটি। বিজিএমইএ’র সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের লেখাপড়া ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

গাইবান্ধা-বালাসিঘাট সড়কের তেঁতুলতলা থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে রয়েছে একটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবন, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও বিনোদনের ব্যবস্থা। বর্তমানে শিশুরা সেখানে ভালো আছে।

Gaibandha

এখানে রয়েছে ২৩ জন ছেলে ও ২১ জন মেয়ে। এসব শিশু হোসেনপুর মুসলিম একাডেমিতে প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

এখানে বসবাস করা রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রামের আল-আমিনের বাবা নেই। মা ফাতেমা খাতুন রানা প্লাজায় পোশাক শ্রমিকের চাকরি করতেন। তার উপার্জনে সংসার চলত। কিন্তু রানা প্লাজা ধসে ফাতেমা খাতুন মারা যাওয়ায় সে একা হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে অরকা হোমসে আল-আমিন ভালো আছে। আল-আমিন জানায়, মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। এখানে পড়াশোনা করছি। বাবা-মার মতো আদর-যত্ন পাচ্ছি। ভালো আছি।

অরকা হোমসের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত হোসেনপুর মুসলিম একাডেমির উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিশুদের তদারকির দায়িত্বে আছেন। এখানে বসবাসকারী শিশুদের লেখাপড়া শেষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

Gaibandha

পাশাপাশি মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুরা যেন বাবা-মার মতো স্নেহ পায় সেজন্য খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।