ফটিকছড়ির চা বাগান থেকে অপহৃত ১৬ শ্রমিক রামগড়ে উদ্ধার
ফটিকছড়ির সোনারখীল নাছিয়া চা বাগানের অপহৃত ৭৮ ত্রিপুরা শ্রমিকের মধ্য ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে ৪৩-বিজিবির রামগড় জোনের জোয়ানরা।
বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামগড়ের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ৫ পরিবারের ৮ জন শিশু ও ৫ জন নারীসহ ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে অপহৃতদের মধ্যে ১৪ পরিবারের ৬২ জনকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
রামগড় বিজিবি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. হুমাযুন কবিরের নেতৃত্বে বিজিবি জোয়ানরা ফটিকছড়ির দাঁতমারা লাগায়ো রামগড়ের গুজা পাড়া, মরা কয়লা, গরু কাটা প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এদিকে অপহৃত ১৬ চা শ্রমিককে উদ্ধারের খবর পেয়ে বুধবার রাতে রামগড় থানায় আসেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আল মামুন ও রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ। এসময় তারা উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।
অপহৃতদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ৪৩-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম জাহিদুর রশিদ বলেন, পাহাড়ের শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই চা বাগানের ত্রিপুরা শ্রমিকদের স্বপরিবারে অপহরণ করে। ৫ দিন যাবৎ এদেরকে রামগড়ের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখার কারণে অনাহারে তারা খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।
পাতাছড়া ইউনিয়নের মেম্বার মানেন্দ্র জনপ্রতিনিধি হয়েও অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করেনি উল্লেখ করেন লে. কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদ বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সিন্ধুকছড়ি সেনা জোন ও রামগড় বিজিবি যৌথভাবে এ অভিযান চালাবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, রামগড় উপজেলা সীমানা লাগোয়া ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সোনারখীল এলাকায় নাছিয়া চা বাগানের শ্রমিক তশিরাম ত্রিপুরার কন্যা শব্দ মিলা ত্রিপুরা (২০) সোনারখীলের হাক্কিটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে আরিফের(২৫) সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ঘটনার জের ধরে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপটি শুক্রবার চা বাগান থেকে ১৯ পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭৮ ত্রিপুরা চা শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
মুজবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/পিআর