ওসির বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতাকে ক্রসফায়ারে আহত করার অভিযোগ
ইটভাটা নির্মাণে বাঁধা দেয়ায় বিএনপি নেতার টাকায় ম্যানেজ হয়ে যুবলীগ নেতাকে আটক করে নির্মম নির্যাতনের পর কথিত ক্রসফায়ারে আহত দেখিয়েছে পুলিশ। গত ১৯ এপ্রিল যশোরের কেশবপুর উপজেলার দেউলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে যুবলীগ নেতা আশরাফুলের পরিবার এই দাবি করেছে। কেশবপুর থানা পুলিশেরর ওসির নেতৃত্বে এ ঘটনার পর ওই নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলক বেশ কয়েকটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ স্বজনদের।
নির্যাতনের শিকার আশরাফুল ইসলাম কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলার দেউলি গ্রামের আব্বাস উদ্দীনের ছেলে। আশরাফুলের মা মনোয়ারা বেগম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশরাফুলের মা মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, ১৯ এপ্রিল রাতে তার ছেলে আশরাফুল ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। মাঝরাতে ওসি সাহেবের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে ঘুম থেকে তুলে মারপিট করতে করতে নিয়ে যায়। ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ওসি সাহেবের পায়ে পড়ি। ওসি আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। পরে জানতে পারি পুলিশ আশরাফুলকে নির্মম নির্যাতনের পর কথিত ক্রসফায়ারে আহত ও আটক দেখিয়েছে। আমি ছেলের নির্যাতনকারীদের শাস্তি চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুলের বাবা আব্বাস উদ্দীন অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে দেউলি গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ে কেশবপুরের বুলু বিশ্বাস ও সেনপুর গ্রামের হাসান আলী পৃথক দুটি ইটভাটা স্থাপনের তোড়জোড় শুরু করে। ফসলি জমি নষ্ট ও পরিবেশ দূষণ করে ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে এলাকাবাসী। আশরাফুল এলাকাবাসীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গত ১১ এপ্রিল প্রতিবাদ সমাবেশ যোগদান করেন। সেখানে এলাকার শতশত নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
আব্বাস উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, এই আন্দোলনে ক্ষিপ্ত হয় ভাটা মালিক বুলু বিশ্বাস ও হাসান আলী এবং কেশবপুরের বিএনপি নেতা আবু বকর ও আবু সামাদ বিশ্বাস। তারা ভাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশকে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে। বিএনপি নেতার টাকায় ম্যানেজ হয়ে গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে কেশবপুর থানা পুলিশের ওসি শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়িতে হানা দেয়। এসময় আশরাফুল ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তাকে ডেকে তুলে গায়ের কালো গেঞ্জি খুলে পুরনো একটি লাল গেঞ্জি পরিয়ে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে দেউলি মোড়ে নিয়ে চোখ, হাত, পা বেঁধে বেদম মারপিট করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর কিছুক্ষণ পর একজন অপরিচিত লোককে কথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দু’দল ডাকাতের গুলিবর্ষণে একজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছে বলে প্রচার করে। আহত দেখানো হয় আশরাফুলকে।
পরে স্বজনরা জানতে পারেন আশরাফুল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করে অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা অবহিত হন। আর এই নাটক সাজানোর পর পুলিশ আশরাফুলকে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তার বাবার। বর্তমানে আশরাফুল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
আব্বাস উদ্দীন দাবি করেন, তার ছেলে আশরাফুল সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবু বকর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে থানা পুলিশের সঙ্গে অর্থ বাণিজ্য করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।
ছেলের নিঃশর্ত মুক্তি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ গাজী গোলাম সরোয়ার, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেশবপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ডাকাতের পরিবার অনেক কথাই বলতে পারে। কিন্তু এসব সঠিক নয়। ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত ও আশরাফুল আহত হয়েছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
মিলন রহমান/এমএএস/পিআর