অ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্রণায় অতিষ্ট রোগী


প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ০১ মে ২০১৭

গাইবান্ধা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হচ্ছে। এসব অ্যাম্বুলেন্সের কালো ধোঁয়া ও শব্দ দূষণে হাসপাতালের পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা বিপাকে পড়েছেন। জেলার অন্যতম এই চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে এই সমস্যা দীর্ঘদিন থেকে চললেও অ্যাম্বুলেন্স না রাখতে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতাল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে ব্যক্তি মালিকানাধীন সাত থেকে আটটি ব্যবসায়িক অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। বিশেষত পুরুষ ওয়ার্ডের পূর্বপাশের পুকুরে অ্যাম্বুলেন্স পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। কোনো কোনো চালক অ্যাম্বুলেন্স চালু করে ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন। উচ্চ শব্দে বাজছে হর্ন। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া।

গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বাবু বলেন, কয়েকদিন আমার অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সের বিকট শব্দ কানে আসে। অ্যাম্বুলেন্সের ধোয়ায় শ্বাসকষ্ট হয়। এখানে শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলাসহ অনেক রোগী থাকেন। তাদেরকে চিকিৎসা নিতে এসে কষ্ট পেতে হচ্ছে।

Gaibandha

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি সুস্থ হতে। কিন্তু এখানে এসে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গাড়ির চালকরা ইঞ্জিন চালু করে শব্দ দূষণ করছে। গাড়ির শব্দে ঘুমানো যায় না।

পরিবেশ আন্দোলন গাইবান্ধা কমিটির সদস্য সচিব জিয়াউল হক জনি বলেন, পুরাতন মাইক্রোবাস মেরামত করে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হয়েছে। এসব গাড়িগুলো খুবই নিম্নমানের। ফলে এসব অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সময় বিকট শব্দ হয়। এসময় নির্গত হচ্ছে কাঁলো ধোয়া। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ দুষিত হচ্ছে।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অ্যাম্বুলেন্স রাখার কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন চালক ও মালিক জানান, এই হাসপাতালে সরকারি দুইটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী পরিবহনে চাহিদা মেটে না। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীরা দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হন। তাই তাদের সুবিধার জন্য আমরা এখানে অবস্থান করি।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমির আলী বিকেল ৫টায় মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বেশি সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স সমস্যা তৈরি করছে। কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা তাদের সমিতির সঙ্গে কথা বলবে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।