রবীন্দ্রপ্রেমীদের ভিড়ে মুখরিত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি


প্রকাশিত: ০৩:১৮ পিএম, ০৮ মে ২০১৭

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির স্মৃতিধন্য কুঠিবাড়িতে চলছে নানা অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীতে রবীন্দ্রপ্রেমীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি।

সোমবার সকাল ১০টায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠান চলবে আগামী ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রবীন্দ্রমেলা।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহের এই কুঠিবাড়ি ও পুকুর পাড়ে বসেই রবিঠাকুর তার নোবেল জয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’র বেশির ভাগ কবিতা লিখেছিলেন। এখানে বসে বলাকা, নৌকা ডুবিসহ রচনা করেছেন বিখ্যাত উপন্যাস, গল্প।

অপরদিকে ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে আছে দেখতে আমি পাইনি, এমন প্রায় ৩ হাজার ৬০০ গানের বেশির ভাগ রচনা করেছেন এখানে বসেই। তাই রবীন্দ্রপ্রেমীদের কাছে এই কুঠিবাড়ির রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। তারা এখানে বারবার আসতে চান। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনদিনব্যাপী রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীতে রবীন্দ্র প্রেমীদের ভিড়ে মুখোরিত হয়ে উঠেছে কুঠিবাড়ি।

সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রহমান ও রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি কবি আলম আরা জুই, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, লালন একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজাল আলী খান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান। পরে অনুষ্ঠানে অতিথিরা স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

বক্তারা বলেন, কবিগুরু তোমার পানে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমানায়, কথাটি আক্ষরিক অর্থে সত্য। রবীন্দ্রনাথ সব্যসাচী সাহিত্যিক ছিলেন। সাহিত্যের সকলস্তরেই ছিলেন তিনি। জীবন ও জীববনমানের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন, পল্লী উন্নয়নের এবং বিজ্ঞন ক্ষেত্রেও রবীন্দ্রনাথের পদচারণা ছিল। চিন্তা চেতনায় রচনায় সবকিছুর ভেতরেই ছিল রবীন্দ্রনাথ।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বকবির মর্যাদায় আসীন করেছিল। এখানকার পদ্মার প্রবাহমান সৌন্দর্য ও শিলাইদহের সবুজ বনানী রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত রচনাবলিকে সমৃদ্ধ করেছিল।

আজ সেই শিলাইদহ যেন রবীন্দ্রনাথকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তাই দেশের যেখানেই বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হোক না কেন শিলাইদহের উদযাপনটা একটু ভিন্ন মাত্রার আমেজে আমরা উদ্বেলিত হই।

আল-মামুন সাগর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।