সিলেটে ৩৫ সরকারি অফিসের দফতর চলে ভাড়ায়


প্রকাশিত: ০৫:০৭ এএম, ০৫ মে ২০১৫

সিলেটে সরকারি অফিস করার উপযোগী খাসজমি থাকা সত্ত্বেও ৩৫টি’র বেশি সরকারি অফিস’র কার্যক্রম চলেছে ভাড়া করা বাসায়। এসব অফিসের ভাড়াই যাচ্ছে প্রতিমাসে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৪ টাকা যা বছরে ১ কোটি ১৯লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৮ টাকা। ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় টাকা ব্যয় হচ্ছে সেই সাথে বাড়ছে জনভোগান্তি।

আয়কর, কাস্টমস, এক্সইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সদর দফতর সিলেটসহ এর অধীনস্থ সব অফিসও চলছে ভাড়ায়। সিলেট ২০১৩-১৪ অর্থবছরই ভ্যাট খাতে ৫৪৫ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ও আয়কর এবং কাস্টমস খাতে ২৩৭ কোটি ৯২ লাখ ৬৬ হাজার টাকাসহ মোট ৭৮৩ কোটি ১ লাখ ১ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। কিন্তু এ খাত সংশ্লিষ্ট কোন কাজের জন্য বের হলে জনগণকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

কেননা সিলেট রাজস্ব বোর্ডের অধীন সকল অফিসই চলে ভাড়ায়। তাই এক স্থানে সব অফিস ভাড়া নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়েই চলছে এসব অফিসের কার্যক্রম। আয়কর বিভাগের চারটি বিভাগ নগরের চার জায়গায় হাউজিং এস্ট্রেট, নয়াসড়ক, উপশহর ও নবাব রোড এলাকায় ভাড়ায় চলে। হাউজিং এস্টেট অফিসে বসেন রাজস্ব বিভাগের আয়কর কমিশনার। এর সাথে আছে আরো তিনটি সার্কেল অফিসের কার্যক্রমও। গত দুই বছরে দুইবার এই রাজস্ব অফিসের কার্যালয় পরিবর্তন হয়েছে।

সৈয়দ আলী আহমদ নামের একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাউজিং এস্টেট অফিসে গিয়ে জানতে পারেন যে তার আয়কর আর এখানে নেয়া হবে না। তাকে যেতে হবে সার্কেল আট এ। ওই অফিসটা পড়েছে নয়া সড়কে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সৈয়দ আলী আহমদ হাউজিং এস্ট্রেট অফিসেই আয়কর দিয়ে আসছেন। বাধ্য হয়ে তিনি নয়া সড়কের নতুন অফিসটি একঘন্টার বেশি সময় খোঁজাখুজি করে বের করে আয়কর জমা দেন।  সৈয়দ আলী আহমদের মতো অনেক গ্রাহকই আয়কর দিতে এসে ঝামেলায় পড়েন।

সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, এই ঝামেলা এড়াতে পারে একমাত্র সরকারি জায়গায় এক ভবনে সব অফিস করে দেয়া গেলে।

শুধু তাই নয় এরকম আরো অন্তত ৩৫টি সরকারি অফিস চলছে ভাড়ায়। অথচ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অফিস করার উপযোগী খাসজমি থাকা সত্ত্বেও এসব অফিসকে মাসের পর মাস গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা ভাড়া।

জানা গেছে, ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস এর অফিস ২০০৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ভাড়ায় চলছে। প্রতি মাসে ৭২ হাজার টাকা ভাড়া দেয় এ অফিস। শুরু থেকে অফিসটি ১৩৪ মাসে ৯৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা শুধু ভাড়াই দিয়েছে। বর্তমান বাজার দর বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই ভবন নির্মাণের কাচাঁমাল শ্রমমূল্য পরিশোধ করেও টাকা বাঁচতো। এভাবেই সিলেট থেকে সরকারী অফিস বাবদ প্রতি বছরে শুধু ভাড়া যায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস মাসে ২০ হাজার টাকা, ঔষধ প্রশাসন সিলেট অফিস মাসে ১০ হাজার ৯০০ টাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিলেট সদর মাসে ২৮হাজার ৩৪০টাকা ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবেশ অধিদফতর সিলেট অফিস মাসে ভাড়া বাবদ খরচ হয় ৪০হাজার ২৫০ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেট জেলা ও বিভাগীয় অফিসকে প্রতিমাসে ৫৯ হাজার ৭৯৫টাকা ভাড়া গুণতে হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমদানি ও রফতানি সহকারী নিয়ন্ত্রকের অফিস সিলেট’র মাসে ১৬ হাজার ৩৫০টাকা ভাড়া দিতে হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ অফিস চলছে ভাড়ায়। ১০টি থানায় মাসে ৫০হাজার টাকা করে ৫ লাখ টাকা, অষ্টম ব্যাটেলিয়ন এর অফিস মাসে ৬১ হাজার টাকা শুধু ভাড়াই গুণতে হচ্ছে সরকারকে।

এদিকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯টি, সমবায়-৩৮০০ এর সিলেট অফিস মাসে ২টি ৪০হাজার টাকা, ক্রীড়া-৩৬০০ সিলেট অফিস মাসে ১৯ হাজার ৬২০টাকা, কৃষি-৪৩০০ এর সিলেট ৬টি অফিস মাসে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ভাড়া দেয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট জেলা তথ্য অফিস মাসে ১৫হাজার টাকা ভাড়া দেয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট জেলা কর্মসংস্থান অফিস মাসে ১০হাজার টাকা ভাড়া দেয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস সিলেট মাসে ৬০ হাজার ২৫০টাকা ভাড়া দেয়। সিলেট জেলা পরিসংখ্যান অফিস মাসে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দেয়। এনবিআর-এর আয়কর বিভাগ সিলেট অফিস মাসে ২ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টাকা ও কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ সিলেট অফিস মাসে ১ লাখ ৩ হাজার ৪১ টাকা ভাড়া দেয়। এসব অফিসের ভাড়াই যাচ্ছে প্রতিমাসে ৯ লাখ ১৭হাজার ৪৬৩ টাকা যা বছরে ১ কোটি ১০লাখ ৯ হাজার ৫৫৬ টাকা। এতে করে রাষ্ট্রীয় টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে।

ছামির মাহমুদ/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।