আসামি না হয়েও জেল খাটছেন বিল্লাল পাঠান


প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ১১ মে ২০১৭

‘নামে নামে যমে টানে’ বলে যে প্রবাদটি প্রচলিত রয়েছে তা আবারও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে চাঁদপুরে। জেলার কচুয়া উপজেলার শিংআড্ডা গ্রামের যুবক বিল্লাল পাঠান কোনো মামলার আসামি না হয়েও জেল খাটছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় তাকে এখন জেল খাটতে হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিল্লালের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে প্রতীকী অনশন করেছেন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা ন্যায় বিচার পাওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অনশন ভাঙেন তারা।

বিনা অপরাধে জেলখাটা বিল্লালের বাবা আ. জাব্বার পাঠান জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ডাকাত দলের এক সদস্য গ্রেফতার হয়। পরে তিনি নিজের নাম বিল্লাল হোসেন মোল্লা, গ্রাম কচুয়ার শিংআড্ডা উল্লেখ করলেও এটি ছিল ভুয়া।

পরে পুলিশ বিল্লাল হোসেন পাঠান নামে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করে। সেই সঙ্গে ফরিদগঞ্জ থানার একটি ডাকাতির মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বিল্লাল হোসেন পাঠানকে চাঁদপুর কোর্টে চালান দেয় পুলিশ। বর্তমানে ৮ দিন ধরে চাঁদপুর জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছে পাঠান।

এদিকে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ২০০৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলার বর্ডার বাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ আটক হয় ছয় ডাকাত।

পরে পুলিশ তাদের কারাগারে পাঠায়। এদের মধ্যে এক ডাকাত পুলিশের কাছে নিজের প্রকৃত নাম ঠিকানা গোপন করে নিজের নাম বিল্লাল হোসেন মোল্লা, কচুয়া উপজেলার শিংআড্ডা তার গ্রামের বাড়ি উল্লেখ করে।

পুলিশ পরে মামলার চার্জশিট তৈরি করতে গিয়ে দেখে বিল্লাল হোসেন মোল্লা, বাবা আ. জব্বার মোল্লা সাং-শিংআড্ডা, উপজেলা কচুয়া, জেলা চাঁদপুর এমন নাম ঠিকানা সম্পূর্ণ ভুয়া।

তখন তাকে ভাসমান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে জেল হাজতে রেখে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূর নবী ভূঁইয়া।

এরই মধ্যে ওই ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহারকারী বিল্লাল হোসেন মোল্লা সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে সে লাপাত্তা।

তবে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ভূঁইয়া আশ্বাস দিয়েছেন বিল্লাল পাঠান যাতে ন্যায় বিচার পায় সে বিষয়ে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন।

নিরাপরাধ বিল্লাল পাঠান দ্রুত কারাগার থেকে মুক্তি পাক এবং প্রকৃত আসামিকে ধরে জেল হাজতে পাঠানো হোক এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তিভোগীসহ আইনজীবীদের প্রত্যাশা।

ইকরাম চেীধুরী/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।