দাফনের ৫৭ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন


প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ২১ মে ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় ইতি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে দাফনের ৫৭ দিন পর কবর থেকে তার মরদেহে উত্তোলন করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে আদালতের নির্দেশে উপজেলার কোরবানপুর কবরস্থান থেকে ইতির মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলু উপস্থিত ছিলেন।

ইতি আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করে।

মৃত ইতি বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল মালিবাগ এলাকার মল্লুক চাঁন্দের মেয়ে। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের আব্দুর মজিদের ছেলে সৌদি প্রবাসী ইয়াসিন ওরফে জুয়েলের স্ত্রী ছিলেন। গত বছরের ৩ মার্চ পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
 
সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল জানান, গত ২৫ মার্চ শ্বশুরবাড়িতে ইতি হৃদরোগে অক্রান্ত হয়ে মারা যায় বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাকে দাফন করা হয়।

ইতির মৃত্যুর খবরে কয়েকদিন পর তার স্বামী জুয়েল মিয়া সৌদি আরব থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তবে তার মৃত্যুর ৪০ দিন না যেতেই জুয়েল মিয়া আরেকটি বিয়ে করেন।

এতে ইতির পরিবার ও স্বজনদের কাছে সন্দেহ তৈরি হলে গত ২৫ এপ্রিল তার বড় বোন রোকসানা আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ইতির স্বামী জুয়েল মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ ও জুয়েলের দ্বিতীয় স্ত্রী শিলা আক্তারসহ সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইতির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

ইতির পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। ওই টাকার জন্য ইতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন/এসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।