পাবনা-৩
বিদ্রোহে টালমাটাল বিএনপি, সুযোগের আশায় জামায়াত
বিদ্রোহী প্রার্থী ঘিরে বিএনপির কোন্দল, শোকজ, বহিষ্কারে টালমাটাল চলনবিল অধ্যুষিত পাবনা-৩ আসনের ভোটের মাঠ। ধানের শীষের শক্ত ভোট ব্যাংকের এই আসনে পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা। বিএনপির অন্তঃকোন্দলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরাও।
তথ্য বলছে, উত্তরের শস্য ও মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসন। এই আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন হলেও ভোটারদের মতে আসল লড়াই হবে ধানের শীষ আর ঘোড়া মার্কার প্রার্থীর মধ্যেই। স্বাধীনতার পর থেকেই এই জনপদে সংসদ সদস্য নির্বাচনে লড়াই হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। বিগত নির্বাচনগুলোতে এখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আওয়ামী লীগ বিহীন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
আসনটিতে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও কেন্দ্রীয়ভাবে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়েছে কৃষকদল সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের হাতে। কিন্তু তাকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ মার্কা নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। স্থানীয় ইজমকে পুঁজি করে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও আনোয়ারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন চাটমোহরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরাসহ বড় একটি অংশ। এতেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে ধানের শীষের ভোট ব্যাংক।
এদিকে বিএনপির এই অস্থিরতায় অনেকটা নির্ভার প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আছগার। অতীতে এই আসনে জামায়াতের অবস্থান খুব একটা শক্তিশালী না হলেও এবার বিএনপির কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে দাঁড়িপাল্লায় চমক দেখাতে চান তারা।
চাটমোহরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা বলেন, দল সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করায় আমরা স্থানীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছি। এজন্য দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। দল থেকে বহিষ্কারও করা হচ্ছে। এতে আমরা মোটেও বিচলিত নই। এসবের কারণে চাটমোহরের মানুষ আরও ফুঁসে উঠেছে। যার প্রতিফলন ১২ ফেব্রুয়ারি দেখা যাবে। ঘোড়া প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পূর্বেও এই আসনের মানুষ আমাকে এমপি করেছিলেন। দল ও মানুষের প্রতি আমি কতটা নিবেদিত সেটা স্থানীয়রা জানেন। এবারও দল যখন ভুল সিদ্ধান্ত নিলো, তখন এই এলাকার মানুষের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। কারণ তারা বহিরাগত কাউকে মানতে রাজি নন। ঘোড়া প্রতীকের যে জনস্রোত দেখা যাচ্ছে তা আমাকে বিজয়ে আরও আশাবাদী করে তুলেছে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আছগার বলেন, ৫ আগস্টের পর দেড় বছর অতিক্রম করেছে। কোথাও জামায়াতের একটি কর্মী কোনো অনৈতিক কাজে জড়ায়নি। উল্টো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অবস্থা বিবেচনা করুন। চাঁদাবাজি দখলবাজি মারামারি তো আছেই, তারা নিজেদের কোন্দলই মেটাতে পারেন না। তাই এই নির্বাচনে আসনটিতে বিজয় নিয়ে আমরা ব্যাপক আশাবাদী।
এদিকে পিছিয়ে নেই ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ তুহিনও। বিপন্ন চলনবিলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিজস্ব মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। তার দাবি, দিনশেষে ভোটাররা প্রতীকের প্রতিই অনুগত থাকবে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, বিএনপি করে ধানের শীষের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা যাচ্ছেন তারা দলের হতেই পারে না। এরা বহিষ্কার হচ্ছেন। ভোটারদের মাঝেও তারা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। দিন শেষে বিএনপির সব কর্মী সমর্থক ধানের শীষে আস্থা রেখে আমাকে বিজয়ী করবে।
এফএ/এমএস