হাওরাঞ্চলে কদর বেড়েছে নৌকার


প্রকাশিত: ০৬:৫৮ এএম, ২২ মে ২০১৭

বর্ষা মৌসুম এলেই নৌকার প্রয়োজন পড়ে হাওরাঞ্চলের জনপদে। ঘর থেকে বের হতে হলে নৌকার বিকল্প নেই। নাগরিক জীবনে এ কারণে কদর বেড়ে যায় এ যানটির। বিশেষ করে নদী-নালা, হাওর-বিলের জনপদেই নৌকার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তাই বর্ষা মৌসুমে গ্রামগঞ্জে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করেন অনেকে। কোথাও কোথাও বসে নৌকার হাট।

হাওর-বাওরের রাজধানীখ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। ছোট-বড় ১৪২টি হাওর ঘিরে এ জেলার অবস্থান। এ জনপদে আংশিক পাকা রাস্তাঘাট থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকার সিংহভাগ মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য এখনও নৌকার উপর নির্ভরশীল।

এ কারণে বর্ষা মৌসুম এলেই গ্রাম-গঞ্জে নৌকা কেনাবেচার হিড়িক পড়ে যায়। বিভিন্ন গ্রামের লোকজন হাট-বাজার স্কুল কলেজ, মাদরাসাসহ সর্বত্র যাতায়াতের জন্য নৌকা কিনতে হয়। তবে ভরা বর্ষায় পড়ন্ত বিকেলে কিংবা জোৎস্না রাতে নৌকা নিয়ে নদীর বুকে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।

গত শনিবার তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি বাজার নৌকার হাটে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হাটে নৌকার দাম খুবই কম। অন্য যেকোন বছরের তুলনায় নৌকার দাম কম হওয়ায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারা। চলতি মৌসুমে এখানে একটি নতুন নৌকা বিক্রি হচ্ছে ২০০০-২২০০ টাকায়।

অথচ অন্যান্য মৌসুমে একটি নতুন নৌকা বিক্রি হতো কমপক্ষে তিন-সাড়ে তিন হাজার টাকা। দামের নিম্নগতির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, অকালবন্যায় ফসলহানি ঘটনায় অধিকাংশ কৃষকের হাত শূন্য রয়েছে। তাই প্রয়োজন হলেও অনেকেই আর নৌকা কিনছেন না।

উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের মৎসজীবী মনাছ আলী, নালেরবন্দ গ্রামের মুসলেম মিয়া বলেন, মাছ ধরতে গেলে নৌকা লাগে। এজন্য তারা প্রতি বছর পুরনো নৌকা বিক্রি করে নতুন নৌকা কেনেন।

উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের নৌকা বিক্রেতা আব্দুল হেকিম বলেন, আপাদত নৌকা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ ফসল হারিয়ে সবাই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

রাজু আহমেদ রমজান/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।