সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আসমা বেগম নামে এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাফত উল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুককে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক নারীর অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই তাদের প্রত্যাহার করা হয়।
গত ৬ মে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার মৃত হোসেন আলী সাউদের স্ত্রী আছমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, বাবার ওয়ারিশ সূত্রে সিদ্ধিরগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পত্তি আমরা ৭ ভাই বোন ভোগ করে আসছি। এলাকার প্রভাবশালী সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছেলে সাকিব বিন মাহমুদ (৫০), মো. মহসিন ও মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মনির জোর করে ওই সম্পত্তি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে গত ২৫ এপ্রিল আদালতে পিটিশন দায়ের করা করা হলে আদালত ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে থানার ওসিকে আদেশ দেন। আমি আদেশের নথি নিয়ে ওইদিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গেলে উল্টো আমার সাথে অশোভন আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেন। পরে জানতে পারি ওসি আগে থেকেই আসামিদের থেকে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ ছিল।
তিনি আরও বলেন, পর দিন ২৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় আমি আদালতের আদেশ নিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ওই আদেশ রাখার জন্য আমার কাছে দুই হাজার টাকা গ্রহণ করে। এছাড়াও এসআই জাহাঙ্গীর আলম আমার ভাই আলীর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে নালিশা ভূমিতে আসামিদের কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২ থেকে ৩ মিনিট পর থানার অপর এসআই ফারুক এসে আমার ভাই মো. আলীসহ ওমর ফারুক ও ইমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন তাদের ছেড়ে দিতে এসআই ফারুক ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে এবং ওইদিন রাত ১১টায় থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলে। পরে আমি রাত সাড়ে ১১টায় ৫০ হাজার টাকাসহ আমার বাড়ির কর্মচারী দেলোয়ারকে থানায় পাঠাই। ওমর ফারুক সেই টাকা গ্রহণ করে।
এদিকে মিথ্যে মামলায় ১৯ দিন জেল খেটে গত ১৬ মে জামিনে মুক্ত হয় ওই বিধবার ভাই মো. আলী ও তার মেয়ের জামাতার কর্মচারী ওমর ফারুক ও ইমরান। তবে বরাবরই ওসি সরাফত উল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করে আসছিলেন।
হোসেন চিশতী সিপলু/আরএআর/জেআইএম