ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্নীতির আরেক নাম ‘হিলিপ প্রকল্প’


প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ১৩ মে ২০১৫

দেশের হাওরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া `হিলিপ প্রকল্প` এখন দুর্নীতির আরেক নাম। চলতি বছর হিলিপ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামে চলছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। নিয়ম অনুযায়ী হিলিপ প্রকল্পের কাজ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা আর ঠিকাদারদের অপতৎপরতার কারণে একদিকে যেমন কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তেমনি বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো থেকে নেওয়া ঋণের টাকারও সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না।

জানা যায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০১১ সালে সরকার (হাওর অঞ্চলের অবকাঠমো ও জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প) হিলিপ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ ৫ জেলার হাওরবেষ্টিত ২৬টি উপজেলার ১৬৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩১ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই হিলিপের একমাত্র উদ্দেশ্য। হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্যে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ) এবং স্প্যানিশ ট্রাস্ট ফান্ড ১১৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার সাহায্য হিসেবে বরাদ্দ দেয়। যার বেশিরভাগ সরকার ঋণ হিসেবে নিচ্ছে। এই প্রকল্পে হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী ভাঙ্গন রোধ, অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানাভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ২০১৩ সাল থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছর জেলার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামে ৬৫ লাখ টাকার ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। সড়কের ভাটিতে ধান ক্ষেতে ৪টি করে রড গেড়ে এর সঙ্গে রিং, বাইন্ডার আর মেইন রোডের ফ্রেমে কাঠের সাটার বেঁধে নির্মাণ করা হচ্ছে আরসিসি প্যালাসাইডিং ওয়াল। রড বাইন্ডিংয়ের বিরাট ফাঁক-ফোকরের মধ্যেই হচ্ছে ঢালাই। ঢালাইয়ের উপকরণও নিম্নমানের।

এদিকে হিলিপ প্রকল্প এলাকাধীন দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেরা কমিটি করে এই কাজ করার কথা। কাজ শুরুর আগে তাদের নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ের জন্য মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪০ শতাংশ টাকা অগ্রিম দেয়ার বিধান থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারদের কাছে হিলিপের কাজ এখন লোভনীয় কাজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বদলে এলজিইডির নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও হিলিপের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সাব কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করে এই কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে সরকারের নেওয়া এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যেই শুধু ব্যহত হচ্ছে না, কাজও হচ্ছে নিম্নমানের। পাশাপাশি এই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে ওঠেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি হিলিপ প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী মো.আরমান রশিদ। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।