স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড


প্রকাশিত: ০৮:০১ এএম, ০৭ জুন ২০১৭

পিরোজপুরে স্কুলছাত্র সাদমান সাকিব প্রিন্স (১৪) হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কিবরিয়া এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাফিস হাসান নাহিদ (১৯) ও নাজমুল হাসান নাঈম (২১)। পিরোজপুর জেলা ও দায়লা জজ আদালতের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া মরদেহ গোপন করার অপরাধে তাদের সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এ ঘটনায় নাহিদ ও নাঈমের বাবা শফিকুলকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

নিহত সাদনাম সাবিক প্রিন্স (১৪) পিরোজপুর শহরের আদর্শপাড়ার জাকির হোসেন সরদার লিটনের ছেলে এবং পিরোজপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ১০ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

এ মামলা বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট নাহিদ ও নাঈম ক্রিকেট খেলার কথা বলে পিরোজপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেসমেকিং ট্রেডের ১০ শ্রেণির ছাত্র সাকিবকে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর দুই ভাই সাকিবকে হত্যা করে তাদের ঘরের খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখে। রাতে নাহিদ ও নাঈম তার বাবা শফিকুলের সঙ্গে পরামর্শ করে সাকিবের মরদেহ কাঠের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে তাদের সিআইপাড়া সড়কের ভাড়া বাসার সামনের রায় পুকুরে ফেলে রাখে।

পরে এলাকাবাসী পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে সাকিবের স্বজনদের খবর দেয়। সাকিবের স্বজনরা এসে মরদেহ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় সাকিবের বাবা জাকির হোসেন লিটন বাদী হয়ে নাহিদ, নাঈম ও তাদের বাবা শফিকুলকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় নাহিদকে গ্রেফতার করলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে সে হত্যার পরে মরদেহ পুকুরে ফেলার বিষয়ে বাবার পরামর্শ রয়েছে বলে জানিয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রপ্ত নাজমুল হাসান নাঈম পলাতক ছিলেন।

এদিকে সাকিবের বাবা নাহিদ ও নাঈমের বাবা শফিকুল রহমানের খালাস পাওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

হাসান মামুন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।