রূপগঞ্জে ভিপি সোহেল বাহিনীর তাণ্ডব
রূপগঞ্জে ভিপি সোহেল বাহিনী দিনে-দুপুরে ফাকা গুলি ছুঁড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা আলোচিত নজরুল ইসলাম বাবু হত্যা মামলার বাদী জালালউদ্দিনকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসযোগে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা জালালউদ্দিনের বাম চোখ তুলে ফেলে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে হামার দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাছিমপুর এলাকার সন্ত্রাসী ভিপি সোহেল বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তাওলাদ, ভাগিনা সেলিম, সবুজ মিয়া ও হানিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও অস্ত্র ব্যবসা করে আসছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে একই এলাকার প্রতিবাদী যুবক নজরুল ইসলাম বাবু। এর সূত্র ধরেই ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর ভিপি সোহেল বাহিনী দিনে দুপুরে নজরুল ইসলাম বাবুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার পিতা জালালউদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা তুলে নিতে তারা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছেন। আগামী শনিবার মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিপি সোহেলের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সন্ত্রাসী তাওলাদ, ভাগিনা সেলিম, হানিফসহ তাদের বাহিনী ভিপি সোহেলের বাড়িতে গোপন বৈঠক করেন। এসময় মামলার বাদী জালালউদ্দিনকে মেরে ফেলার আদেশ দেয় ভিপি সোহেল। পরে সন্ত্রাসীরা জালালউদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে জালালউদ্দিনকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে।
একপর্যায়ে জালালউদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাদা মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী এগিয়ে আসতে চাইলে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে চলে যায়। পরে মাইক্রোবাসেই জালালউদ্দিনের বাম চোখ তুলে ফেলে। একপর্যায়ে হামাড় দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মীর আব্দুল আলীম/এসএস/পিআর