২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নওগাঁ


প্রকাশিত: ০৯:৩৯ এএম, ১০ জুন ২০১৭

নওগাঁয় বজ্রপাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরনের করণে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে পুরো জেলাসহ বগুড়া জেলার একাংশে নেমে এসেছে অন্ধকার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নওগাঁর ৫টি উপজেলা ও বগুড়া জেলার ২টি উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ গ্রাহক। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করীম, বগুড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বজ্রপাতের ফলে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরনে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। বজ্রপাতের সময় বজ্রপাত নিরোধক লাইটিং অ্যাডাপটার নষ্ট হওয়ায় ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়। এছাড়া বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলছিল।

nowga

বিদ্যুৎ না থাকায় গৃহস্থালী কাজ থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা, পরিবহন সংকট, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে রমজান মাস অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ইফতার, সেহরি এবং তারাবিহর নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলা শহরের মার্কেটগুলোতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ চালানো হচ্ছে।

শহরের বাঁঙ্গাবাড়ীয়া মহল্লার গৃহবধূ লাবনী আক্তার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজের পানি সব গড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া রোজার সময় রান্না, খাবার ও গোসলের কাজে ব্যবহৃত পানির ব্যাপক সমস্যায় পড়েছি। প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাদের কান্নাকাটিতে অস্থির।

নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বজ্রপাতের কারণে ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে প্রটেকশনাল ট্রান্সফর্মার (পিটি) তিনটি নষ্ট হয়। শুক্রবার রাত থেকে রাজশাহী, বগুড়া এবং নওগাঁর কয়েকটি টিম রাতদিন কাজ করছে এই সংকট নিরসনে। কিন্তু বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এমদাদুল হক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত এবং হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধুমাত্র জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর অপারেশন থিয়েটারে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহৃত হচ্ছে।

আব্বাস আলী/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।