চোখ উপড়ে নিয়ে হত্যা করা হলো মামলার বাদীকে


প্রকাশিত: ০৪:৪৬ এএম, ১৫ মে ২০১৫

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভিপি সোহেলসহ তার বাহিনীর সদস্যরা দিনে-দুপুরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা আলোচিত নজরুল ইসলাম বাবু হত্যা মামলার বাদী ও তার পিতা জালালউদ্দিনকে অপহরণের পর বাম চোখ উপড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে হামার দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মেহেদী মাসুদ।

আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাছিমপুর এলাকার সন্ত্রাসী ভিপি সোহেল বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তাওলাদ, ভাগিনা সেলিম, সবুজ মিয়া ও হানিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও অস্ত্র ব্যবসা করে আসছেন। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে একই এলাকার যুবক নজরুল ইসলাম বাবু।

এর সূত্র ধরেই গত ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর ভিপি সোহেল বাহিনী দিনে দুপুরে নজরুল ইসলাম বাবুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তার পিতা জালালউদ্দিন বাদী হয়ে এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছেন। আগামী ১৬ মে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিপি সোহেলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে সন্ত্রাসী তাওলাদ, ভাগিনা সেলিম, হানিফসহ তাদের বাহিনী  ভিপি সোহেলের বাড়িতে গোপন বৈঠক করেন। এসময় মামলার বাদি জালালউদ্দিনকে মেরে ফেলার আদেশ দেন ভিপি সোহেল। পরে সন্ত্রাসীরা জালালউদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে জালালউদ্দিনকে অপহরণের চেষ্টা চালান। এসময় তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে জালালউদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাদা মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যান। এলাকাবাসী এগিয়ে আসতে চাইলে সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যান। পরে মাইক্রোবাসেই জালালউদ্দিনের বাম চোখ উৎপাটন করা হয়। এছাড়া হামাড় দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাছিমপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।