লক্ষ্মীপুরে শ্রমিককে নাকে খত, গ্রামপুলিশসহ গ্রেফতার ৪


প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২২ জুন ২০১৭

লক্ষ্মীপুরে মাটি কাটার শ্রমিক নূরুল আমিনকে (৫২) গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত ও নাকে খত দিতে বাধ্য করার আলোচিত ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এতে সেই দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসানুল কবির রিপনসহ ৭ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রাম-পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম, সালিসদার জাহাঙ্গীর আলম, কাজী ইউসুফ ও কাজী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

এছাড়াও মামলায় ইউপি সদস্য বুলবুল ইসলাম খান ও সালিসদার মো. আজাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযান চালিয়ে গ্রাম-পুলিশসহ ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চলছে।

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যানকে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইনের করা জনস্বার্থে রিট মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর দ্বৈত অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রুল দেন।

১৮ জুন জাগো নিউজে ‘এ কেমন বিচার’ শিরোনামে ছবি, ভিডিওসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি জনস্বার্থে আদালতের নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইনের রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেন।

আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইন জানিয়েছেন, চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ৩ জুলাই বেলা সাড়ে ১১ এগারটায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হতে বলেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এসপিকে নির্দেশ দেয়া হয়। নির্যাতিত পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এসপিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

অন্যদিকে প্রকাশিত সংবাদটি (১৮ জুন) দেখে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোমায়রা বেগম একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তিনি চিঠি দেন। বুধবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিত ব্যক্তি তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে সাক্ষাত করেন।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, নির্যাতিত ব্যক্তির নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। এ মামলায় গ্রেফতার গ্রাম-পুলিশের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন ২য় রমজান গ্রাম্য সালিসে শ্রমিক নূরুল আমিনকে বাড়ি থেকে ধরে এনে প্রকাশ্যে নাকে খত দিতে বাধ্য করেন। এসময় তার (চেয়ারম্যান) নির্দেশে গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম ওই শ্রমিককে ১১টি বেত্রঘাত করে। অভিযোগকারী শহীদ ও তার স্ত্রীর পায়ে ধরে দু’দফায় ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাননি তিনি। শহিদ নামে আরেক মাটি কাটা শ্রমিকের সঙ্গে বিবাধকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ইউনিয়নের বড় আউলিয়া গ্রামে সালিসের আয়োজন করেন। সালিসের দুইদিন পর নুরুল আমিনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তির গোপনে ধারণ করা এক মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের সালিসে নির্যাতনের ভিডিওটি ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাজল কায়েস/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।