পুকুরে কুড়িয়ে পাওয়া পুরাতন তৈজসপত্র নিয়ে ফরিদগঞ্জে তোলপাড়
ফরিদগঞ্জে প্রায় ২ শত বছরের পুরনো তৈজসপত্র পুকুরে কুড়িয়ে পাওয়া নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের অজিউল্যা পাঠান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, পাঠান বাড়ির অজিউল্যার ছেলে ইব্রাহিম (৪০) গত ২৮ জুন পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরে নিয়ে যান। এরপর পার্শ্ববর্তী বাড়ির সফিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে মুজাম্মেল হোসেন, নিরঞ্জন চন্দ্র দাসের ছেলে সুনীল চন্দ্র দাস, সৈয়দ আলীর ছেলে আ. ছাত্তার ও রজেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রাম চন্দ্র দাস ওই পুকুরে মাছ খুঁজতে গিয়ে জায়গায় পিতল ও কাঁসার তৈরি মূল্যবান তৈজসপত্র কুঁড়িয়ে পায়।
তারা আরও জানান, এরই মাঝে মুজাম্মেল হোসেন অনেকগুলো মূল্যবান তৈজসপত্র নিয়ে লুকিয়ে নিজের বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনা জানাজানির এক পর্যায়ে বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ কিশোরকে জানানো হয়। তিনি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
পরে চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী মুজাম্মেলের বাড়িতে গিয়ে পুকুর থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র বের করে দেয়ার জন্য চাপ দেন। এ সময় মুজাম্মেল পিতলের কিছু থালা, বাটি, চামচ ও গ্লাস বের করে দেয়।
এলাকাবাসীর ধারণা মুজাম্মেলের কাছে এরকম বহু মূল্যবান তৈজসপত্র রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িয়ে পাওয়া এসব তৈজসপত্র বর্তমানে ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ কিশোরের নিকট গচ্ছিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি শোনার পর আমি জিনিসগুলো উদ্ধারের জন্য মোজাম্মেলের বাড়িতে যাই, তবে মূল্যবান বহু তৈজসপত্র সে আমাদেরকে দেয়নি। আমাদের ইচ্ছা ছিল সব কিছু উদ্ধার করে প্রশাাসনের কাছে সোপর্দ করবো। ধারণা করা হচ্ছে এসব তৈজসপত্র প্রায় ২ শত বছরের পুরনো বা মোগল আমলের।
ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ কিশোর জানান, ওই পুকুর থেকে পাওয়া জিনিসপত্র দেয়ার জন্য মুজাম্মেলকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে মুজাম্মেল যে সব জিনিসপত্র দিয়েছে সেগুলো আমার কাছে গচ্ছিত রয়েছে। মুজাম্মেলের কাছে আরও বহু মূল্যবান জিনিস থাকতে পারে।
প্রবীর চক্রবর্তী/এমএমজেড/পিআর