এবার সিলেট-আখাউড়া রেললাইনে বাঁশ!


প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ০৩ জুলাই ২০১৭

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভবন ও সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এবার সিলেট-আখাউড়া রেললাইনের স্লিপারে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের আওতাধীন মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেললাইনের নষ্ট স্লিপারের ওপরে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কাঠের স্লিপারগুলো না পাল্টিয়ে তার বদলে বাঁশ ব্যবহারের কারণে তা স্থানচ্যুত হয়ে রেললাইন সরে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের পশ্চিমে দুই কিলোমিটার দূরত্বে সুতাং রেলসেতু ও পূর্বে ২ কিলোমিটার দূরত্বে খোয়াই নদী রেল সেতুর কাঠের অর্ধেক স্লিপার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো রক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ ও কাঠ।

এই রেলপথের ছোট বড় রেলসেতুর লাইন থেকে স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে পারে সে জন্য সেগুলোর ওপর পেরেক ঠুকে ফালি করা বাঁশ ও কাঠ স্থাপন করে রাখা হয়েছে।

এই অবস্থায় ছড়া, খাল ও নদীর ওপর রেলসেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন এই রুটে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীরা।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পথ) রুহুল আক্তার খান জানান, শায়েস্তাগঞ্জে ৯০ নম্বর সুতাং নদীর ওপর প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুতে ১৫০টি স্লিপার রয়েছে। এছাড়া ৯৮ নম্বর খোয়াই নদীর ওপর প্রায় ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুতে ১৭৫টি স্লিপার রয়েছে।

তিনি আরও জানান, রেলসেতুর নিচে পাকা পিলার ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সরকারের আমলে নির্মিত। কিন্তু পাকা পিলারগুলো কালক্রমে দুর্বল হয়ে যাওয়াতে অনেক স্থানে ফাটল এবং দেবে যায়। আবার কোনো স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজ দেবে যায়।

এই সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতীতে ট্রেন চলাচল করে। সেতুটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন বা কেপিআই) মধ্যে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেলজংশনের অদূরে সুতাং ও খোয়াই রেলসেতুর অবস্থান। রেলওয়ের ৯ জন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী সেতুর ওপরে নাট-বল্টু লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সঙ্গে নিচের গার্ডারের সংযোগ দেয়ার কাজ করছেন।

এর মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই ও সুতাং ব্রিজে দুইজন কীম্যান রয়েছেন। অন্যান্য ব্রিজগুলো সাতজন কীম্যানের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে। সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত স্লিপারে পেরেক ঠুকে বাঁশের ফালি ও কাঠ লাগানো হচ্ছে।

কাজে ব্যস্ত শায়েস্তাগঞ্জের দায়িত্বরত কীম্যান নুরুজ্জামান ও আলমগীর বলেন, স্লিপারগুলো মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেলপথের সকল সেতুর অধিকাংশ স্লিপার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ট্রেন চলাচলের সময় ঝাঁকুনিতে নাট-বল্টু খুলে স্লিপার জড়ো হয়ে যায় এবং ব্রিজের নিচে পাকা পিলার দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ব্রিজের নিচের পাকা পিলারগুলো নড়াচড়া করে। দিনে দুই-তিনবার এসে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখতে হয়। স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে বাঁশের ফালি ও কাঠ দিয়ে স্লিপারগুলো আটকে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এই রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা।

ট্রেনচালক নাজমুল হক বলেন, ট্রেন চালানোর সময় রেললাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যদি কোনো কারণে রেলসেতুর নিচে পুরাতন পিলার দেবে যায় বা ভেঙে যায় তবে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোনো কারণে স্লিপার স্থানচ্যুত হয়ে রেললাইন সরে গেলে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনের মাস্টার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তদারকি করা তার কাজ নয়। তিনি শুধু স্টেশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই সুতাং ও খোয়াই রেলব্রিজসহ অন্যান্য ব্রিজের স্লিপার নষ্ট এবং স্লিপারে বাঁশ ও কাঠ লাগানো হয়েছে তা তার জানা নেই।

তিনি বলেন, রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ এই অঞ্চলে কাজ করেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী পথ ও পূর্ত বিভাগ।

রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) নুরুল আমিন বলেন, মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেলপথের সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। কাঠের সঙ্কটের কারণে সেতুর নতুন স্লিপার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এএম/এসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]