ভূমিহীনদের ১৫ হাজার কলার গাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা
কুষ্টিয়ার খোকসায় রাতের আঁধারে গড়াই নদীর হিজলাবট দ্বীপ চরের ১৮ ভূমিহীনদের প্রায় ১৫ হাজার কলার গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
অবশেষে মামলা নিয়েছে থানা। তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি। ভূমিহীনদের দাবি, তাদের নামে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেয়া জমি দখল নিতে নদীর পশ্চিম পাড়ের প্রভাবশালী এক সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে তিন মাসের ব্যবধানে তিনবার হামলা চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা উপজেলার হিজলাবট দ্বীপ চর আদর্শ গ্রাম প্রকল্পের ভূমিহীনদের জমিতে হানা দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কলা গাছ কেটে দিয়েছে। জমি দখল নিতে গড়াই নদীর পশ্চিম পাড়ের প্রভাবশালীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে রোববার রাতে এই হামলায় ভূমিহীনরা সব থেকে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
হামলাকারীরা প্রান্তিক কৃষক আজিজ, কাজেম, নাজের, লাল্টু, মুক্তার, রেন্টু, ভজন শেখ, ভৈরস আলী, আশিক, আলাউদ্দিন, সরোয়ার, রবিউল, জাকির, মজিবর, আছিরদ্দিন, সাহেব আলী, লালন, দুলালসহ ১৮ ভূমিহীনের প্রায় ২৫ বিঘা জমি থেকে ১৫ হাজার কলার গাছ কেটে দিয়েছে।

দুর্বৃত্তরা শুধু এবারেই প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার কলার গাছ কেটে রেখে গেছে। এ ঘটনার পর সকালে ভূমিহীনরা থানায় মামলা দিতে যায়। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদের ফেরত পাঠায়। পরে বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সুপারিশে মামলা নেয়া হয়েছে বলে জানান ভূমিহীন নেতারা।
চৈতালী ফসলের সময় তারা দ্বীপ চরের ভূমিহীনদের আবাদি প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে লাল ফ্লাগ (নিশানা) টাঙিয়ে দখল ঘোষণা করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভূমিহীনরা জমির দখল ফিরে পায়।
গত সপ্তাহের বুধবার সকালে প্রভাবশালীরা দ্বিতীয় দফায় ভূমিহীনদের ওপর হামলা চালিয়ে দুলাল, কামরুল, নাদের আলীসহ ২৫ ভূমিহীনের ১০ বিঘা জমির তিল, কলা ও ধুনচে জাতীয় ফসল কেটে নিয়ে যায়।
এ সময় নদী পার হয়ে আসা সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ৮ ভূমিহীন নারী ও শিশু আহত হয়। এসব হামলার ঘটনার পর থেকে গোটা চরের ভূমিহীনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রভাবশালীদের পক্ষ নেয়া সন্ত্রাসীদের ভয় উপেক্ষা করে অবশেষে তারা থানায় মামলা করেছে। ইতোমধ্যে দ্বীপ চরের ভূমিহীনরা বসতভিটা ও সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি বলে দাবি করেন ভূমিহীন নেতা কাজেমসহ অনেকেই।

দ্বীপ চরের ভূমিহীন নেতা লাল্টু জানান, নদীর পশ্চিম পাড়ের খানপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান মানিক ও তার লোকদের নেতৃত্বে তিন মাস আগে প্রথম হামলার ঘটনার পর থেকে তারা প্রশাসনের সহায়তা পাওয়ার জন্য অনেক আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। গত রাতে কলা গাছ কাটার পরও তারা থানায় মামলা দিতে যায়। কিন্তু পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। অবশেষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সদর উদ্দিন খানের অনুরোধে ওসি মামলা নিয়েছেন।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল হুদা বলেন, ভূমিহীনদের আগের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হয়েছে। প্রথমে ৫০ জনকে আসামি করায় ভূমিহীনদের ফেরত পাঠানো হয়। পরে মামলা নেয়া হয়।
আল-মামুন সাগর/এএম/এমএস