যুবলীগের আহ্বায়ক এখন ইজারাদার
বহমান নদীকে মৃত. দেখিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের কুলতলিতে কাকশিয়ালি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে দেবেন না স্থানীয় জনগণ।
তারা বলেন, এক শ্রেণির সুবিধাভোগী মানুষের স্বার্থে এ সাঁকো তৈরি হলে তা নদীকে যেমন অচল করে তুলবে তেমনি নদীর দুই প্রান্তের মানুষের একমাত্র ব্যবসা চিংড়ি ঘের মার খাবে।
মঙ্গলবার সকালে কালিগঞ্জের কুলতলি খেয়াঘাটে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, এই নদীর খেয়াঘাট এক ইজারাদার জেলা পরিষদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে চালাচ্ছেন। এই ঘাট দিয়ে খেয়া নৌকায় এ ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এতে জনগণের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অথচ বিনা কারণে সেই খেয়াঘাট তুলে দিয়ে সেখানে বাঁশের সাঁকো স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের সব চেয়ারম্যান একমত হয়ে এই সাঁকোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করেছেন।
খেয়াঘাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকার আরও বলেন, সাঁকো তৈরি হলে চিংড়ির জন্য প্রয়োজনীয় লোনা পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। পুরো মৎস্য চাষই মার খাবে। এছাড়া সচল নদী হয়ে পড়বে অচল ও প্রবাহহীন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর এক পত্রে বলা হয় কুলতলি খেয়াঘাটটি চলতি বছরের পয়লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সাতক্ষীরার রসুলপুরের আবদুল মান্নানের নামে একসনা ইজারা দেয়া হয়েছে। এরপর নতুন করে তিনি আবেদন করে বলেছেন, নদী মরে যাওয়ার কারণে খেয়া পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফলে সেখানে খেয়া তুলে দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলে জানসাধারণ উপকৃত হবেন। এজন্য ওই নদীতে একই ব্যক্তিকে সাঁকো তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আনম ময়নুল ইসলাম তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
তবে স্থানীয়রা বলেন, কাকশিয়ালি নদৗ সচল। নিয়মিত জোয়ারভাটা খেলে এ নদীতে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। যেকোনো মূল্যে আমরা তা প্রতিহত করবো বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক বিভাস সরকার, শিবপদ সরকার, পশুপতি সরকার, মাখন লাল সরকার, তারালি ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, দিলীপ সরকার, গৌর চন্দ্র বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
তবে সাঁকো প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান জানান, তিনি কোনো সাঁকো তৈরি করছেন না। সাঁকো তৈরি করছেন এলাকার শ্রীদাম বিশ্বাস ও রবিউল ইসলাম।
তবে জানতে চাইলে শ্রীদাম বিশ্বাস বলেন, আমি দৈনিক ৩২০ টাকার পারিশ্রমিকে কাজ করি মাত্র। নদীর বাঁশের সাঁকো তৈরি করছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান। কাগজপত্র সবই তার নামে।
তিনি বলেন, সাঁকো নির্মাণকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আব্দুল মান্নান কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি