ঈদে হাতে মেহেদি ব্যবহারে যেসব বিষয় সতর্ক থাকবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনন্দ মানেই নতুন জামাকাপড়, সুস্বাদু খাবার আর হাতে রঙিন মেহেদির নকশা। চাঁদরাতে হাতভর্তি মেহেদি না থাকলে যেন সাজটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু এই শখের রংই কখনো কখনো মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে বাজারে মেহেদির মোড়কে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক মিশ্রিত পণ্য, যা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ত্বকের জন্য হতে পারে ভীষণ ক্ষতিকর।

চিকিৎসকদের মতে, প্রাকৃতিক মেহেদি থেকে গাঢ় রং পেতে সাধারণত ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ‘ইনস্ট্যান্ট’ মেহেদি, যা মাত্র কয়েক মিনিটেই গাঢ় রং ধরিয়ে দেয়। এই দ্রুত রঙের পেছনেই লুকিয়ে থাকে বিপদ।

এই ধরনের মেহেদিতে মেশানো হয় পিপিডি (প্যারা-ফেনাইলেনেডিয়ামিন) নামক একটি রাসায়নিক, যা সাধারণত চুলের রংয়ে ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বকের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের কোমল ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

jagonews

ত্বকের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া
পিপিডি যুক্ত মেহেদি ব্যবহারের ফলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অসহ্য চুলকানি, লালচে দাগ, চাকা চাকা ফুসকুড়ি এবং অনেক ক্ষেত্রে হাত ফুলে গিয়ে ফোস্কা পড়া।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘কেমিক্যাল বার্ন’, যা কখনও কখনো স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের ক্ষত এতটাই গুরুতর হয় যে তা সারতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং দাগও থেকে যেতে পারে।

কেনার আগে সতর্কতা জরুরি
ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে মেহেদি কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। প্রথমেই মেহেদির গন্ধ পরীক্ষা করুন। প্রাকৃতিক মেহেদির একটি মৃদু ভেষজ গন্ধ থাকে। কিন্তু যদি ঝাঁঝালো বা ওষুধের মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে তাতে রাসায়নিক মেশানো আছে।

এছাড়া ‘প্যাচ টেস্ট করে নিতে পারেন। মেহেদি সরাসরি হাতে লাগানোর আগে কানের পেছনে বা কনুইয়ে সামান্য লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা করতে পারেন। ত্বকে কোনো জ্বালাপোড়া বা চুলকানি না হলে সহজে ব্যবহার করা যাবে।

মেহেদির টিউব কেনার সময় অবশ্যই মেয়াদের তারিখ যাচাই করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

ব্যবহার করার সময় যা করবেন
মেহেদি লাগানোর পর যদি সামান্য অস্বস্তি বা জ্বালা শুরু হয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কোনোভাবেই জায়গাটি ঘষবেন না, এতে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

যদি ফুসকুড়ি বা ফোস্কা দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসা না করে সরাসরি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।