ফরিদপুরে ঈদের আনন্দ নেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদ আনন্দ নেই ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় লক্ষণদিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। মুখে নেই ঈদের হাসি, নেই কোনো উৎসবের আমেজ; বরং আছে হতাশা, অনিশ্চয়তা আর না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পরিবারের ঘরে ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই। নেই সেমাই, চিনি, দুধ কিংবা মাংস কেনার সামর্থ্য। অনেক শিশু এখনও জানে না, ঈদে তারা নতুন পোশাক পাবে কিনা।

স্থানীয় ও আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক পরিবার নিয়মিত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত। ফলে ঈদের মতো আনন্দের উৎসবও তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বেদনার প্রতীক। ঈদ মানে যেখানে আনন্দ, ভাগাভাগি আর খুশির বার্তা, সেখানে এ মানুষগুলোর জীবনে ঈদ এসেছে নীরব, নিঃশব্দ আর বিষণ্ণ হয়ে।

ফরিদপুরে ঈদের আনন্দ নেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

আশ্রয়ণের বাসিন্দা বিধবা কমেলা বেগম বলেন, আমার স্বামী-ছেলে কেউ নেই। নাতনি কাজ করে যা আয় করে, তা দিয়ে কষ্টে কোনোমতে দিন চলে। একটা টিসিবি কার্ড আছে, তাও নিয়মিত পাই না।

আরেক বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, তিন বছর ধরে এখানে থাকি। একটা মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছেলে নেই। স্বামী অসুস্থ, কোনো কাজ করতে পারে না। আমি মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই। সরকারি কোনো সাহায্য পাই না। ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কিছুই নেই।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরও কয়েকজন বাসিন্দা— রাবিয়া বেগম, সাহেরা বেগম, জিয়াসমিন বেগম, চায়না বেগম, পাখি বেগম, আবে বেগম ও তাসলি বেগম— জানান, আমরা শুধু একটা ঘর পেয়েছি, কিন্তু জীবিকা নেই। স্বামীরা ঠিকমতো আয় করতে পারে না। অনেক সময় আমাদের অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতে হয়। ঈদ সামনে, কিন্তু এখনো বাজার করতে পারিনি। সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনতে না পারাই সবচেয়ে কষ্টের।

ফরিদপুরে ঈদের আনন্দ নেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, কয়েক দিন আগে প্রতি পরিবারে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি। তারপরও সামনে আবেদন করলে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা করে দেওয়া হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে দেওয়ার জন্য সরকার কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়নি। এমন যদি হতো সরকার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, আমি দেইনি। তাহলে একটা কথা ছিল। সরকার বিভিন্ন ধরনের স্কিম প্রস্তুত করছে। সরকার যেভাবে বলে, আমরা সেভাবে কাজ করবো। সরকার হয়তো তাদের আওতায় আনবে, একটু সময় দিতে হবে। কেউ বাদ যাবে না।

এন কে বি নয়ন/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।