লালমনিরহাটে গুলি করে যুবকের লাশ নিয়ে গেল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। নিহত ওই ব্যক্তির পায়ে গুলির চিহ্নের ও সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯০৫ এর ১০ নম্বর সাব পিলারের ঘটনাস্থলের কাছে পতাকা বৈঠকে মিলিত হয় বিজিবি-বিএসএফ।
স্থানীয়রা লাশটি চিনতে না পারায় পরে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে নোম্যান্সল্যান্ড থেকে কাটাতারের এপার থেকে ওপারে লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ। সেখানের নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় কাটাতারের বেড়ার পাশে এনে ফেলে রেখে যায় ভারতীয় পাগালীমারী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি বিজিবি।
ওই এলাকার চান্দের আলী (৫০) বলেন, লাশটি স্থানীয় কারও নয়। তবে তাকে পায়ে গুলি করার পর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিএসএফ।
এদিকে সীমান্তের কাটাতারের এপারে লাশ পড়ে থাকার খবরে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে। তবে বিএসএফের নির্যাতনে নিহত ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় নাগরিক এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারছে না বিজিবি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সাবু মিয়া বলেন, লাশটি স্থানীয়রা চিনতে না পারায় বিএসএফ নিয়ে গেছে।
হাতীবান্ধার দৈখাওয়া বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুল কাদের বলেন, এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। সেখানে ভারতের ১০০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার ইন্সেপেক্টর মুখেশ কুমার লাশ শনাক্তের আহ্বান জানালে আমরা স্থানীয় চার ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। কিন্তু কেউ লাশটি চিনতে পারেনি। পরে বিএসএফ নিহত ব্যক্তির লাশটি ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে বলে জানান বিজিবির ওই কোম্পানি কমান্ডার।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫-ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোরর্শেদ জানিয়েছেন, স্থানীয়রা লাশটি শনাক্ত করতে পারেনি। তাই বিএসএফ লাশ নিয়ে গেছে।
রবিউল হাসান/এএম/জেআইএম