ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুই হাত বেঁধে শিশুকে মারধরের অভিযোগ
না বলে মাছ ধরার অপরাধে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পারভেজ মোশারফ সামি নামে এক শিশুকে দুই হাত বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যরা ওই শিশুটিকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের টেপড়া এলাকায় গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশু ওই এলাকার তুহিনুজ্জামান তপুর ছেলে এবং শিবালয় উপজেলা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
শিশুটির বাবা তুহিনুজ্জামান তপু অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে তার ছেলে প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আজহারুল হক লালনের পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যায়। এ সময় তাকে ধরে রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে মেম্বার লালন ও তার ভাই বাচ্চুসহ পরিবারের সদস্যরা বেধম মারপিট করেন। এরপর আহত অবস্থায় একটি কালভাটের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা হয় তাকে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরশ্বাদুল্লাহ জানান, শিশুটির মুখমণ্ডল, মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে সে শঙ্কামুক্ত।
তুহিনুজ্জামান তপু আরও জানান, ইউপি সদস্য লালনদের সঙ্গে তাদের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ কারণে পরিকল্পিতভাবেই তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় সামির মা খুরশীদা আক্তার পলি বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিয়েছেন। রোববার আদালতে এই মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আজাহারুল হক লালন জানান, তার এইচএসসি পড়ুয়া ভাতিজি বাথরুমে বসা অবস্থায় সামি গোপনে ছবি তুলে। এ কারণে তাকে ধরে দু-চারটি থাপ্পড় মারা হয়। রশি দিয়ে বাঁধার কথাও স্বীকার করেন তিনি। সামির মোবাইল ফোনে কোনো ছবি পাননি বলেও তিনি জানান।
বি.এম খোরশেদ/আরএআর/এমএস