বারি তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে


প্রকাশিত: ০৭:৩৩ এএম, ২৫ মে ২০১৫

গোপালগঞ্জে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি তিল ৩ ও ৪ আবাদ করে কৃষক বাম্পার ফলন পেয়েছেন। ফলে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতি হেক্টরে প্রায় দেড় টন তিল উৎপাদিত হবে। গোপালগঞ্জ জেলায় তিলের আবাদ ১৫-২০ বছর আগে বন্ধ করে দেন কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এ বছর উদ্যোগ নিয়ে আবার কৃষকদের দিয়ে তিল চাষ শুরু করানো হয়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার হরিদাসপুরে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আয়োজিত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও বারির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহাবুবুর রহমান খান, অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বারি খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রশান্ত কুমার সরদার ও পিএসও ড. মহিউদ্দিন ও গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী।

গোপালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফেরদৌসী রহমান, কৃষক মো. জিল্লুর রহমানসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে বারি তিল ৩ ও ৪ জাতের আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫শ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় জমিতে তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে।

হরিদাসপুরের কৃষক মো. জিলু মিয়া জানান, আগে আমরা কলাই ও পাট আবাদ করতাম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের পাশে থেকে উন্নত চাষাবাদের কলা কৌশল শিখাচ্ছে। এখন আমরা দুই ফসলের জমিতে ৩ ফসল করছি। এর আগে এ জমিতে আমরা সরিষা চাষ করেছি। সরিষা তুলেই আবার তিল আবাদ করেছি। তিল কাটা হলে এ জমিতে ধান আবাদ করবো।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণে তিল ধরেছে। আমরা এতে লাভবান হবো বলে আশা করছি।

গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম খায়রুল বসার বলেন, বারি তিল-৩ জাতের হেক্টরে ১২শ থেকে ১৪শ কেজি ও বারি তিল-৪ হেক্টর প্রতি ১৫শ কেজি ফলেছে। তিলে ৪৫ ভাগ তেল আছে। এটি বাংলাদেশর তৃতীয় প্রধান ভোজ্য তেল। এ তেলে মাছ মাংসের সমান ২০ ভাগ প্রোটিন রয়েছে।

কোনো কোলস্ট্রোরেল নেই। তিল তেল নিরাপদ ভোজ্য তেল। স্থানীয় জাতের তিল হেক্টরে ৫শ থেকে ৬শ কেজি ফলে। কিন্তু বারি তিল হেক্টরে ফলে প্রায় ১৫শ কেজি। ১ কেজি বারি তিল থেকে সাড়ে ৪শ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। কিন্তু স্থানীয় জাতের ১ কেজি তিলে মাত্র ২শ ৫০ গ্রাম তেল উৎপাদিত হয়। তিল আবাদ এখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আবার তিল চাষ শুরু করেছি। তিল চাষে কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে এ এলাকায় তিলের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

এস এম হুমায়ূন কবীর/এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।