খুলনা সংলাপে বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে ব্যবহারের আহ্বান
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে কষ্ট করে পানি পান করতে হচ্ছে। লবণাক্ত পানি শোধন করার উপায় না থাকায় তাদের এই কষ্ট করতে হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বর্ষার পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। সোমবার দুপুরে পানি অধিকার: দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বাস্তবতায় আমাদের করণীয় শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, আকাশের পানি অর্থাৎ বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা হয় না, এই পানি নদীর মাধ্যমে সাগরে চলে যাচ্ছে। পুকুর, খাল বিল, নদী ভরাট করে চাষাবাদ করার ফলে বন্যার ৫০ ভাগ পানিও আমরা ধরে রাখতে পারছি না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক নদী খাল ভরাট হয়ে গেছে। এখন খাল খননের দিকে নজর দিতে হবে। শতকরা ৫০ ভাগ টিআর, কাবিখা খাল খননের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে।
তিনি আইলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সমবেদনা জানান। সাতক্ষীরায় ২০৭টি পুকুর
সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান।
এনজিও ফোরাম এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. দিলীপ কুমার দত্ত, প্রফেসর ড. মো. আতিকুল হক। বক্তব্য রাখেন, রূপান্তরের নির্বাহী প্রধান স্বপন গুহ, ওয়াল্ড ভিশনের কুদরত-ই-খুদা, সাংবাদিক শেখ আবু হাসান, ফারুক আহমেদ, কল্যাণ ব্যানার্জী, জনপ্রতিনিধি উমা শংকর রায় প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন কমে যায়নি। এখন বাংলাদেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। সরকার বিদেশে এই উদ্বৃত্ত খাদ্য ত্রাণ হিসেবে দিতে চাইছে।
জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এ অঞ্চলে পুকুরের কোনো বিকল্প নেই। পুকুরের তালিকা করে তা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃতিক দুর্যোগসহ মিঠা পানি সংরক্ষণেও এই পুকুর কাজে আসবে। একই সঙ্গে পুকুর খনন করার জন্য তিনি কেউ খাস জমি চাইলে তা দেয়া হবে বলেও জানান।
আলমগীর হান্নান/এমজেড/এমএস