বড় হচ্ছে মুরছালিনের চোখের ছিদ্রটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ এএম, ২০ জুলাই ২০১৭

কেচির সুচারু আঘাতে বাম চোখের মনির নিচের অংশ ছিদ্র হওয়ায় মুরছালিনের (৮) জীবনে নেমে এসছে ঘোর অন্ধকার। শিশুটির বাম চোখ আজ অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় চীরতরে নষ্ট হওয়ার পথে। চোখের অসহনীয় জ্বালাপোড়ার কারণে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে তার।

মুরছালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের সহায়-সম্বলহীন দিনমজুর সেকিল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় বানিয়াগাঁও কমিউনিটি স্কুলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র। অসহায় বাবা-মা স্বপ্ন দেখেন ছেলের অনাগত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের।

বৃহস্পতিবার সকালে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় শিশুটির বাবা দিনমজুর সেকিল মিয়ার। তিনি বলেন, গেল ঈদুল ফিতরের আগের দিন বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল মুরছালিন। একপর্যায়ে অপর বন্ধুর হাতে থাকা একটি কেচির আঘাতে সামন্য ছিদ্র হয়ে যায় তার বাম চোখের মনির নিচের অংশ। 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ভার্ড চক্ষু হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের জন্য রাজধানীর কোনো চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দিনমজুর অসহায় বাবার অর্থের যোগান না হওয়ায় ভাগ্যে জোটেনি উন্নত চিকিৎসা। 

দিন দিন এই ক্ষত বড় হওয়ায় চোখের অসহনীয় যন্ত্রণা এখন শিশুটির নিত্যসঙ্গী। এছাড়া দিনের বেলায় চোখে ঝাপসা দেখতে হয় তাকে। চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন না করলে চীরতরে বাম চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। তার এই চোখের অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন। 

যে পরিবারে দু'বেলা দু'মোঠো আহার জুটে না সেখানে এত টাকা যোগাড় করা কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। তাই ছেলের চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে দেশের হৃদয়বানদের সহযোগিতা কামনা করছেন অসহায় এই বাবা। 

মুরছালিনের প্রতিবেশী মতিউর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমীন বলেন, অর্থের অভাবে তার বাবা-মা উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।  দেশের হৃদয়বানরা এগিয়ে আসলে হয়তো অসহায় পরিবারের শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে।

রাজু আহমেদ রমজান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।