চাষির মুখে ‘পটলের হাসি’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৫:২১ এএম, ২১ জুলাই ২০১৭

সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা। পলি মাটি হওয়ায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়ে থাকে এখানে। বর্তমানে চলছে পটলের মৌসুম। গত কয়েক দিনের তুলনায় বাজারে পটলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। পটলের ভাল দাম পেয়ে খুশি পটল চাষিরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ৮৭০ হেক্টর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বদলগাছী উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর, মান্দায় ২১৫ হেক্টর এবং সদরে ২১০ হেক্টর। 

বেশ কিছু দিন আগ থেকে বাজারে পটল ওঠা শুরু হলেও দাম তেমন ছিল না। খরচের তুলনায় পটল চাষিদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এখন বাজারে দাম ভাল থাকায় খুশি পটল চাষিরা। পটলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাট-বাজারে এখন প্রচুর পটল উঠতে শুরু করেছে। 

এ উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট-বাজার উপজেলা সদর স্কুল মাঠ সংলগ্ন। স্কুল মাঠে সপ্তাহে দুটি হাট বসে। প্রতি হাটে প্রায় ২০০ টন পটল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় পাঠানো হয়ে থাকে। 

Naogaon

বুধবার ছিল সদর উপজেলা হাটের দিন। সকাল থেকে চাষিরা হাটে পটল নিয়ে আসা শুরু করে। প্রতিমণ পটল ৬৫০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে মাচায় থাকা পটলের গুণগত মান ভাল থাকায় চাষিরা দামও একটু বেশি পাচ্ছেন। ভাল দাম এবং বৃষ্টির পানিতে পচনের হাত থেকে পটল রক্ষা করতে চাষিরা একটু কষ্ট করে মাচা করে দিয়েছেন। মাচায় পটলের ফলন ভাল হয় এবং গুণগত মানও ভাল থাকে।

কাদিবাড়ি গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ১০ কাঠা জমিতে পটলের আবাদ করেছেন। প্রথম প্রথম দাম একটু কম ছিল। এখন বাজারে ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে। পটলে তেমন রোগ বালাই নাই। পটলের আবাদও ভাল হয়েছে। 

উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, এখন পটলের মওসুম। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ব্যবসা করেন। প্রতি হাটে প্রায় ২০০-২৫০ মন পটল কিনছেন। আর এ হাট থেকে ২০০ টনের অধিক পটল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি ট্রাকে করে পাঠানো হয়। তবে তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। প্রতি কেজি পটলে ৫-৭ টাকা লাভ থাকে। 

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।