কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটে অচলাবস্থা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১০:২৯ এএম, ২১ জুলাই ২০১৭

পদ্মায় তীব্র স্রোত ও চ্যানেল মুখে নাব্যতা সংকটের কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে ঘাট এলাকায় বাড়ছে যানজট আর দুর্ভোগ।

টানা চার থেকে পাঁচ দিন পদ্মা পার হওয়ার অপেক্ষায় ঘাটে আটকে থেকে বিপাকে পড়েছে পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও তার সহকারীরা। খাদ্য, পয়ঃনিষ্কাশনসহ নানা সমস্যার মুখে পড়ছে আটকে থাকা প্রায় দুই শতাধিক পরিবহন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে ঘাট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে গত দুইদিন ধরে রোরোসহ পাঁচটি ফেরি বিকল থাকায় এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পদ্মায় স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা পলি জমে নৌপথের চ্যানেলমুখ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। চ্যানেলমুখের প্রশস্ততাও কমে গিয়ে সুরু হয়ে আসছে। এই চ্যানেল মুখে প্রায়ই আটকে যাচ্ছে ফেরি। ফলে কর্তৃপক্ষ বিকল্প চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখে। তবে এই বিকল্প চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কমপক্ষে ৪০ মিনিট সময় বেশি লাগছে। ফলে দৈনন্দিন ট্রিপ কমে গেছে ফেরির। পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিবহন পার করা যাচ্ছে না। ফলে আটকে থাকা পরিবহনের লাইন দীর্ঘতর হচ্ছে প্রতিদিন।

এছাড়া এই নৌরুটের ১৯টি ফেরির মধ্যে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, কে-টাইপ ফেরি কাকলী, কিশোরী, ক্যামেলিয়া ও ডাম্ব ফেরি টাপলো বিকল হয়ে পড়ায় ফেরি চলাচল আরও হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে ফেরি চলাচলে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও সাধারণ যাত্রীদের লঞ্চ ও স্পিডবোটে করে উত্তাল পদ্মা পার হতে হচ্ছে। আর এ সকল নৌযানে জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম পর্যাপ্ত নেই বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকে থাকা ট্রাকের এক চালক জানান, গত পাঁচদিন ধরে এই কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আটকে আছেন তিনি। খাদ্যের যোগান দিতে ফুরিয়ে যাচ্ছে পকেটের পয়সাও। আরও রয়েছে পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা। 

বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, প্রতি বছরই এই সময়ে ফেরিচলাচলে সংকটের সৃষ্টি হয়। পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি বিকল্প চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। আর এতে দিনে ট্রিপের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তবে আমরা ঘাটে আটকে থাকা যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করে দিচ্ছি।

এ কে এম নাসিরুল হক/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।