শেরপুরে আসামি পলায়ন : দুই কনস্টেবল বরখাস্ত
শেরপুরে পুলিশ কাস্টডি থেকে হত্যা মামলার আসামি পালানোর ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এরা হলেন, কোর্ট পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল মোতালেব ও কনস্টেবল উজ্জ্বল মিয়া।
এদিকে, পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আসামি হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজুলকে (৩০) পুলিশ আটক করতে পারেনি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কোর্ট পুলিশের কাস্টডি থেকে সিনিয়র বিচারিক হাকিম-৩ আদালতে নেওয়ার পথে হাফিজুল কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আদালত ও পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল) মো. শাহজাহান মিয়া জাগোনিউজকে জানান, পালিয়ে যাওয়া আসামি হাফিজুরকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যেকটি থানায় এ সংক্রান্ত বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, কর্তব্যে অবহেলাকারীদের প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত ও পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হলেও ঘটনাটি তদন্ত শেষে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, পালিয়ে যাওয়া আসামি হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজুল নালিতাবাড়ীর উপজেলার নন্নী এলাকার ইজিবাইক চালক ওমর আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি। গত ৩১ মার্চ রাতে মধুটিলা ইকোপার্ক থেকে নন্নী আসার পথে হাফিজুর তার দুই সহযোগীকে নিয়ে কিল-ঘুষিতে ওমর আলীকে হত্যা করে তার মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে পালানোর সময় স্থানীয় জনগণ হাফিজুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আশরাফুল আলম বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে থেকেই হাফিজুর কারাগারে রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে আসামি হাফিজুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার ছিলো ওই মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করার ধার্য তারিখ।
হাকিম বাবুল/এসএস/পিআর