সুন্দরগঞ্জে বাঁশের সাঁকো বিধ্বস্ত : বিপাকে এলাকাবাসী
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার খোর্দ্দা গ্রামে তাম্বুলপুর ছড়া নদীর উপর এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরী বাঁশের সাঁকোটি ঝড়ে ধ্বসে পড়ায় এলাকাবাসীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে তাদের ।
তারাপুর ইউনিয়নের চর গ্রাম ঘগোয়া ও খোর্দ্দা এলাকায় তিস্তার শাখা তাম্বুলপুর ছড়া নদী। এই ছড়া নদীর কারণে দীর্ঘকাল খোর্দ্দা ও লাটশালা চরের ৭-৮ হাজার শিশু, নারী, পুরুষ কখনো নৌকায়, কখনো ভেলায় নদী পাড় হয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতেন। পানি কম থাকলে সাঁতরেও পার হতেন অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষ।
নৌ-যানের স্বল্পতার কারণে চরবাসি কোন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন। চরের ছেলেমেয়েরাও স্কুল কলেজে যেতে পারতো না। হাট-বাজারসহ জরুরি কোন কাজই হতো না সময় মত। দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে ছড়া নদীর দুই তীরের জনগণ বৈঠক করে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে গত বছর কেউ বাঁশ, কেউ টাকা আবার কেউ শ্রম দিয়ে ১৩০ হাত দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। কিন্তু গত সপ্তাহের প্রচন্ড ঝড়ে বাঁশের সাঁকোটি বিধ্বস্ত হলে দুই পাড়ের মানুয়ের জনগণের দুর্ভোগ আবারও চরমে ওঠে।
খোর্দ্দা চরের সমাজসেবী আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই চরের ভেতরে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক বহুদুর থেকে চরের স্কুলে গিয়ে লেখপড়া শেখান। কিন্তু সাঁকো ভেঙে পড়ায় নদী পেরিয়ে শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে স্কুলে পৌঁছতে পারছেন না। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছেলেমেয়েরাও এলাকার বাইরে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।
শিক্ষক ও রাজনীতিক আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, জীবন জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলা গাছের ভেলায় অথবা সাঁতার দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। বাঁশের সাঁকো বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিছিন্ন হলেও স্থানীয় প্রশাসনের কেউ দেখতে আসেননি। এমনিতেই চরবাসি বন্যা, খরা, শীতের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। এ যেন নতুন এক যুদ্ধ।
এ ব্যাপারে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ খোকা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আগের মতই এলাকাবাসীর সহযোগীতায় সাকোটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে।
অমিত দাশ/এআরএস