শ্রেণিকক্ষে ইঁদুর মারা কীটনাশক, একে একে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ১৩ মে ২০২৬
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়

পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরের পর বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে পিঁপড়া ও ইঁদুর মারার কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই কীটনাশকের বিষক্রিয়ার তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে ধীরে ধীরে আরও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পাশাপাশি অনেক অভিভাবক নিজ উদ্যোগে তাদের সন্তানদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কাবেরী জানান, বিষক্রিয়ার কারণে ৫৩ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। আতঙ্ক ও প্যানিক অ্যাটাকের কারণেও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত। অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ বোধ করায় অভিভাবকরা তাদের বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, ‌‘হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, কেউ অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, আবার কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেখ মহসীন/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।