নদীর বুকে ভাসমান পল্লীতে শিক্ষা কার্যক্রম


প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২৬ মে ২০১৫

পিরোজপুরের কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর বুকে ২নং আমরাজুড়ীর ইউনিয়নের আশোয়া গ্রামে ভাসমান বেদে পল্লীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছেন কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আ: লতিফ খসরু। মঙ্গলবার ওই বেদে পল্লীতে গিয়ে শিশুদের মাঝে বই বিতরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

বেদে পল্লীর বেদে মহিলারা জীবিকা নির্বাহের জন্য সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসেন। পল্লীতে রেখে যান শিশু সন্তানদের। তাদের দেখভাল করেন শিশুদের বাবারা। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে জীবিকা নির্বাহের জন্য ছুটে চলে বেদেরা। ফলে বেদে শিশুদের লেখাপড়া করার সুযোগ হয় না। তাই তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেন শিক্ষা উদ্যক্তা আ: লতিফ খসরু।

২নং আমরাজুড়ী ইউনিয়নের মাগুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আ: লতিফ খসরু ভাইয়ের উদ্যোগের কথা আমি শুনেছি। তার এ মহৎ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তার মত এ ধরনের মহৎ কাজে সমাজের অন্য সব মানুষরা এগিয়ে আসলে সমাজের হতদরিদ্র ছিন্নমূল শিশুরা কিছুটা হলেও শিক্ষার আলো দেখতে পাবে বলে আমি মনে করি।

কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আ: লতিফ খসরু বলেন, আমার প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশপাশি সমাজের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিন্নমূল শিশু এবং ভাসমান বেদে পল্লীর শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমার এ উদ্যোগ। কোন কিছু চাওয়া বা পাওয়ার জন্য আমি এই কাজটি করিনি, নিজের এক গভীর দায়বোধ থেকে এ কাজটি করছি।

ভাসমান বেদে পল্লীর সরদার শহিদুল ফকির বলেন, আমাদের ও আমাদের সন্তানদের কেউ যখন খোঁজ খবর নিচ্ছিল না ঠিক তখনি আমাদের বেদে পল্লীতে আসেন আ: লতিফ খসরু ভাই। তিনি আমাদের খোঁজ খবর নিলেন এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের হাতে তুলে দিলেন বই, খাতা আর পেনসিল।

উল্লেখ্য, এই নদীতে বেদেরা এসেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্ডা গ্রাম থেকে।

হাসান মামুন/এআরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।