চাঁদপুরে ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের ফাঁসি, অপরজনের যাবজ্জীবন
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় ব্যবসায়ী মুকবুল হোসেন মাল হত্যা মামলায় আসামি লুৎফুর রহমান খালাশীকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড এবং মো. সুজন খাঁকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ রায় দেন।
একই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আদালত একই আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের সশ্রম করাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী মুকবুল হোসেন মাল শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার বড়ই গাঁও গ্রামের মৃত মিন্নত আলী মালের ছেলে। তিনি চাঁদপুরের পুরান বাজার দীর্ঘদিন ব্যবসা করতেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. লুৎফুর রহমান শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার পূর্ব ডামুড্যা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং যাবজ্জীবন প্রাপ্ত সুজন খাঁ চাঁদপুর শহরের মধ্যম শ্রীরামদী কবর স্থান রোডের নান্নু খাঁর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ব্যবসায়ী মুকবুল হোসেন মাল গত ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি শহরের পুরাণ বাজার তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পলাশ ট্রেডার্সের ব্যবাসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করে রাত ১০টায় গদি ঘরে ঘুমিয়ে থাকেন। রাত আনুমানিক সোয়া ১১টায় উল্লেখিত আসামিদ্বয় পাশ্ববর্তী হাজী এন্টারপ্রাইজের ভিতরে দিয়ে পলাশ ট্রেডার্সে প্রবেশ করেন। তারা মুকবুলের কাছ থেকে সিন্ধুকের চাবি নিয়ে নগদ টাকা-পয়সা নেয়ার সময় মুকবুল চিৎকার করলে তারা ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। তার চিৎকারে সড়কে থাকা পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মুকবুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে এবং রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে।
একই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় লুৎফুর ও সুজনকে আটক করেন। এই ঘটনায় নিহত মুকবুল হোসেন মালের ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে রাতেই আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্বীপ কুমার মজুমদার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি সাইয়্যেদুল ইসলাম বাবু জানান, দীর্ঘ ৪ বছর মামলাটি চলা অবস্থায় আদালত ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় এবং তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। এছাড়া এ মামলার অপর আসামি জাহাঙ্গীর ঢালীর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
ইকরাম চৌধুরী/এফএ/আরএআর/পিআর