৪ শিশু হত্যা, রায়ে সন্তুষ্ট নয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মানুষ
হবিগঞ্জের বাহুবলের আলোচিত চার শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি সুন্দ্রাটিকি গ্রামবাসী। তাদের প্রত্যাশা ছিল প্রত্যেক আসামির ফাঁসির আদেশ হবে। মামলার প্রধান আসামি আব্দুল আলী বাগালসহ তিনজন খালাস পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাদীপক্ষের লোকজন। রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহত মনিরের বাবা মো. আব্দাল মিয়া।
এদিকে রায় শোনার পরই নিহত চার শিশুর বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। যেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নিহত তাজেলের মা আমেনা বেগম, মনিরের মা সুলেমা খাতুন, ইসমাইলের মা মিনারা খাতুন ও দাদি মরম চান।

একপর্যায়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজন খালাস পাওয়ায় নিহতদের পরিবারের কেউই সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
বাদীর প্রতিক্রিয়া : আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলার বাদী মো. আব্দাল মিয়া রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। মামলার প্রধান আসামি আব্দুল আলী বাঘাল কীভাবে খালাস পেলেন এটি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। যার আদেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তাকে কেন খালাস দেয়া হলো। মামলার বাদী হিসেবে এ রায়ে কোনোভাবেই আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমি প্রত্যেক আসামির ফাঁসির দাবি জানাই।

বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া : আইনজীবী মানবাধিকার সংগঠন এলার্ট এর জেলা সভাপতি মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল বলেন, গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে নৃসংশ এ হত্যাকাণ্ড জেলাবাসীকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছিল। এ ঘটনায় খুনিদের যে শাস্তি দেয়া হয়েছে তাতে জেলাবাসীসহ সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। এ মামলার রায় ভবিষ্যতে কোনো শিশু হত্যা বা নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
হিউম্যান রাইটস্ সেল হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আকিকুজ্জামান খান বলেন, রায়ে আমরা জেলাবাসী সন্তুষ্ট। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মামলায় যারা প্রকৃত দোষী তাদের শাস্তি হয়েছে। কেউ দোষ না করে সাজা ভোগ করুক এটি কারও কাম্য নয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া : আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী আশরাফুর বারী নোমান বলেন, আমরা মনেকরি আইন সঙ্গত বিচার হয়নি। আইনত বিচার হলে সব আসামি খালাস পাওয়ার কথা। উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। সেখানে গেলে আশাকরি সব আসামি খালাস পাবে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এখানেই সব আসামি খালাস পাবে।
বাহুবল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হক জানান, গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একজন এসআই’র নেতৃত্বে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএএস/জেআইএম