বেড়িবাঁধ ভেঙে বাগেরহাটের আরও ১০ গ্রাম প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৭

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর রিং বাঁধ ভাঙার একদিন পর এবার ভৈরব নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোড়ামারা গ্রামসহ ১০/১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় ওই এলাকার শত শত ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। মাছের ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ খালে দখলদাররা মাছ চাষের নামে দীর্ঘদিন ধরে পাটা ও জাল দিয়ে প্রবাহমান খাল বেধে রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনার পর বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল হাফিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেয়া হয়েছে ত্রাণ সহায়তা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল হাফিজ জানান, মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখেছেন। তিনি অবিলম্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে যে সমস্ত অবৈধ বাঁধ ও পাটা দিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলো অপসারণ করার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে জল আবদ্ধ করে রাখে আর তা অপসারণে বাধা দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে নদীতে পানির চাপ ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বুধবারও চিতলমারী উপজেলার জলাবদ্ধ হয়ে পড়া ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

Bagerhat2

ভারি বর্ষণ ও নিম্নচাপের প্রভাবে গত সোমবার চিতলমারীর চিত্রা নদীর রিং বাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে চিতলমারী উপজেলার ৫ হাজার ১৭০টি মৎস্য ঘের ভেষে গেছে এতে প্রায় ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা।

কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান জানান, চিতলমারী উপজেলার ৫৫ হেক্টর আমন বীজতলাসহ রোপা আমন ২৯৫ হেক্টর, সবজি ৫০৫ হেক্টর, আউষ ধান ২৫ হেক্টর ও পান বরজ ৭ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার, মুনিগঞ্জ, খারদার, বাগেরহাট সদর থানা, ডাকবাংলোর মোড়সহ অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে বাসাবাটি ও খারদ্বার এলাকার বেশ কিছু এলাকা। শহরের খালগুলি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় সরু হয়ে যাওয়া খাল দিয়ে পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

এরই মধ্যে বাগেরহাট, রামপাল, শরনখোলা, মোড়েলগঞ্জ ও চিতলমারী উপজেলার ১৫ হাজারেরও অধিক বাগদা, গলদা চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে হাজারও মাছের ঘের ও সবজি বাগান।

তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট জেলা শহরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। দুপুরের পর আবারও বর্ষণ শুরু হয়। বৃষ্টির কারণ ইতিপূর্বে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলোর বসতবাড়ির আঙ্গিনায় জমে থাকা পানি কমছে না।

শওকত বাবু/আরএআর/এমএস