ঝড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ওঠেনি দুই মাসেও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১২ এএম, ২৭ জুলাই ২০১৭

হবিগঞ্জ শহরে ঝড়ে বাঁকা হয়ে পড়া ১৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি দুই মাসেও উঠানো সম্ভব হয়নি। সড়ক বিভাগের আপত্তিতে আরও বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এখন খুঁটি বসাতে ডিজাইন পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তারা। আর খুঁটিগুলো দাঁড় করাতে আরও একমাস সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো পড়ে যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। দুই মাসেও খুঁটিগুলো তুলতে না পারায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন জানান, এখানে ৮টি খুঁটি নিচে পড়ে গেছে। আর ৮/১০টি খুঁটি বাঁকা হয়ে গেছে। জায়গাটা দুর্বল, মাটি সাপোর্ট করছে না তাই খুঁটি দাঁড় করানো যাচ্ছে না।

এছাড়া সড়ক বিভাগ আপত্তি দিচ্ছে যেন খুঁটিগুলো রাস্তার খুব কাছাকাছি বসানো না হয়। এ অবস্থায় ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে। আশা করা যায় আগামী এক মাসের মধ্যে খুঁটিগুলো দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শহরের কামড়াপুর-নছরতপুর বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে শাহজীবাজার থেকে জেলা শহর পর্যন্ত বিদ্যুতের মেইন লাইন টানা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন এ লাইন টানা হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস পূর্বে প্রচণ্ড ঝড়ে আধুনিক স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো নিচে পড়ে যায়। যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।

অথচ শুধু স্টেডিয়াম নয়, এখানে পাশেই রয়েছে শাহ এএমএস কিবরিয়া অডিটরিয়াম, আনসার ভিডিপি অফিস, জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, নিউফিল্ডসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। আশেপাশে রয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। পাশেই শহরতলীর বৃহৎ গ্রাম সুলতান মাহমুদপুর। এসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে কয়েক হাজার যানবাহন।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের খুঁটিগুলো নিচে পড়ে যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রায় দুই মাস ধরে পড়ে আছে। এতদিনেও এগুলো দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। আর কতদিন গেলে এগুলো দাঁড় করানো যাবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যেখানে খুঁটিগুলো বসানো হয়েছে ওই স্থানের মাটি দুর্বল হওয়ায় প্রায় দুই মাস পূর্বে ঝড়ে ৮টি খুঁটি নিচে পড়ে গেছে। আর ৮/১০টি খুঁটি বাঁকা হয়ে গেছে। আর পাশে ময়লা আবর্জনা থাকায় জায়গাটি কাজের উপযোগী নয়। মাটিও সাপোর্ট করছেনা। তাই খুঁটি দাঁড় করালেও তা থাকবে না।

আবার রাস্তার খুব কাছাকাছি বসালে দুর্ঘটনার আশংকাও করছেন তারা। মনে করা হচ্ছে রাস্তায় চলাচলকারী পরিবহন যেকোনো সময় ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। এমতাবস্থায় খুঁটি বসানোর ডিজাইন পরিবর্তন করা ছাড়া তারা কোনো উপায় দেখছেন না।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।