কাউন্সিলরের অপকর্মে অচল কক্সবাজার পৌরসভা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ০৯ আগস্ট ২০১৭

কাউন্সিলর কর্তৃক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধরের জেরে কক্সবাজার পৌরসভায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

এতে পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় পৌরসভার প্রধান ফটক ও বিভিন্ন সেবা কক্ষের দরজায় তালা দেন বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

একটি তুচ্ছ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সাল নোবেল কর্তৃক প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম প্রহৃত হন। খোরশেদ আলম বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নেতা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেল উগ্র ও অভদ্র কাউন্সিলর। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একে একে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ তার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। অথচ তিনি পুরো কার্যালয়ের সবচেয়ে শান্ত প্রকৃতির লোক। তিনি কারও সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথাও বলেন না। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব কর্মচারী কর্ম বিরতি পালন করবে।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে পৌরসভার সব বিভাগ বন্ধ থাকায় সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে পৌরসভায় সেবা নিতে আসা লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হালনাগাদে ভোটার হতে ইচ্ছুকরা। তারা সকাল থেকে পৌরসভার কার্যালয় চত্বরে অলস বসে রয়েছেন।

জন্ম নিবন্ধন নিতে আসা হালিমা বেগম জানান, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। পৌরসভার সব অফিস বন্ধ। তাই ফিরে যাচ্ছি।

২নং ওয়ার্ডের রেজাউল করিম নামে এক যুবক বলেন, নেতা নেতা ঝগড়া করবে আর কষ্ট পাবে সেবাপ্রাথীরা, এটা কেমন নিয়ম?

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে মারধরের শিকার কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, মঙ্গরবার দুপুর ২টার দিকে কাউন্সিলর নোবেল আমার মোবাইলে কল দেন। কল রিসিভ না করে আমার রুমের পার্শ্ববর্তী তার চেম্বারে সরাসরি চলে যাই। গিয়ে দেখি তার সঙ্গে কর্মরত এমএলএসএস নুরুল ইসলামকে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন।

আমাকে নিদের্শ দিয়ে বলেন, এই পিয়নকে আমার রুম থেকে সরিয়ে দে। আমি বললাম পিয়ন নুরুল ইসলাম আপনার সঙ্গে কোনো বেয়াদবি করেছে? এটি শুনে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললেন, সেটা তোকে কেন বলতে হবে? তুই কে? আমি যা বলছি তাই কর। একথা শেষ না করেই আমাকে প্রহার শুরু করেন। পরে অন্যান্য কর্মচারীরা এসে আমাকে উদ্ধার করেছে।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সাল নোবেলের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন এ কাউন্সিলর। তার হাতে সচিব প্রহৃত হয়েছিলেন। একজন ঠিকাদার কাজ না করে পালিয়ে গেছেন। এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি সমধান হওয়া জরুরি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্মারকলিপির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। তাই আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, সরকারি দায়িত্ব পালন কালে প্রহৃত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছেন করেছেন। মামলা নথিভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগে উপ-নির্বাচনে কাউন্সিলর হয়ে আসা এ জনপ্রতিনিধির অত্যচারে অতিষ্ঠ সবাই। নির্বাচিত হয়ে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত পৌরসভার সচিবকে বন্দুক নিয়ে তাড়া করেছে। হিসাব রক্ষককে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আদায় করেছে চেক। কম্পিউটার অপারেটর, আরেক সিনিয়র কর্মচারীকেও মারধর করেছে। এর আগে বহিষ্কৃত মেয়র সরওয়ার কামালকে বন্দুক হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। এসব ঘটনার কোনটিরই সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার তার বেপরোয়া ভাব বেড়ে গেছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।