মার্ডার মামলায় কিছু হইনাই, পাচার মামলায় কি অইবো


প্রকাশিত: ০৯:৪৯ এএম, ০১ জুন ২০১৫

চলমান মানবপাচার নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। আর মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ওই পাচারকারীদের ধরতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের রাতের ঘুম যখন হারাম হয়ে পড়েছে তখন গাজীপুরের কালীগঞ্জে মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে এক চা দোকানির।

এ ব্যাপারে পাচার হওয়া শিশুর বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আবার সাধারণ ডায়েরি করেছেন অভিযুক্ত চা দোকানিও।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক দেড় মাস আগে উপজেলা জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের হত দরিদ্র নছিমন চালক মো. আমান উল্লাহ মোল্লার ছেলে মো. হোসাইন মোল্লা (১৩) একই উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাগদী গ্রামের সফুর উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের (৪৫) দোলান বাজারে চায়ের দোকানে কাজ করতো। কিন্তু, আমান চলতি মাসের ৩ তারিখে ওই দোকানে তার ছেলেকে দেখতে গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে হোসাইনের বাবা তার ছেলে কোথায় আছে জানতে চাইলে দেলোয়ার কিছু জানেন না বলে জানান। পরে একেক সময় একেক তথ্য জানান। দেলোয়ারের কথা-বার্তায় সন্দেহ হলে নিখোঁজ হোসাইনের বাবা তার ছেলেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি।

পরে  ১৬ মে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর কুয়ালা লাংসা এলাকার একটি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের ছবি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সেই ছবি দেখে এলাকার লোকজন হোসেনের ছবি বলে দাবি করেন। পরে সেই ছবি আমান দেখেন এবং ছেলেটিকে হারিয়ে যাওয়া ছেলে বলে দাবি করেন। পরে নিখোঁজ হোসাইনের বাবা আমান এলাকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ২৬ মে সকালে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে লিখিত অভিযোগের কথা শুনে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনও ওই দিন সন্ধ্যায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ৯৯১) করেন। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ্য করেন, হোসেন দোকান থেকে টয়লেটের কথা বলে বের হয়ে দোকানে আর ফিরে আসেনি।

এ ব্যাপারে সোমবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার চাচা ও জামালপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোসেন আলী এ প্রতিবেদjকে জানান, হারাইছে তো কি অইছে? তারে তো ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া গেছে। সে তো ফিরা আইবই সমস্যা কি?।



আর মেম্বরের এ কথার সূত্র ধরে তার ছেলে ও জামালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মুনছুর জাগো নিউজকে বলেন, তিন তিনটা মার্ডার মামলায় আমার বাবার কিছু হয় নাই। আর পাচার মামলায় কি ------ অইব। আমরা ওসি সাবের সাথে কথা বইলা আইছি।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার জাগো নিউজকে জানান, হোসাইন তার দোকান থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কেন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি বা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়নি প্রশ্ন করলে দেলোয়ারের চাচাত ভাই যুবদল নেতা মুনছুর বলেন, সাধারণ ডায়েরি ১/২ বছর পরেও করা যায়। তাছাড়া আমাদের মেম্বর (তার বাবা) সাবকে তো জানাইছি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হোসাইন টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তা তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেননি এবং হোসাইনের বাবার অভিযোগের কথা শুনে নিরাপদে থাকার জন্য তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। স্থানীয়দের ধারণা দেলোয়ার এবং তার চাচাত ভাই মুনছুরের মানব পাচারকারী দলের কোনো চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে।

বর্তমানে মানবপাচারের ঘটনাগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার-প্রসারের কারণে হোসাইন নিখোঁজের বিষয়টি সামনে আসে। সূত্র আরো জানায়, জামালপুর এলাকায় আগেও কয়েকবার পাচারকারী দলের সদস্যদেরকে আটক করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. খাইরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। আমি এ ব্যাপারে জানি না। তবে ইদানিং লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি দেলোয়ারের দোকানে একটি ছেলে কাজ করতো তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের একটি ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর আমান সেই ছবি দেখে সেখান থেকে একটি শিশুকে তার ছেলে বলে দাবি করছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নিখোঁজ হোসাইনের বাবা থানায় চা দোকানি দেলোয়ারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আবার দোলোয়ার ঘটনার ২৩ দিন পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে দেখে শুনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্দুর রহমান আরমান/এমজেড/আরআই/ এমএএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।