ভোলার বিস্ময় বালক নিত্যানন্দ


প্রকাশিত: ০৫:৩৬ এএম, ০২ জুন ২০১৫

ভোলায় শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবাজির ১২৫তম তিরোধান উৎসবে সাড়ে ৬ বছরের শিশু পাঠক নিত্যানন্দ সরকারের (দীক্ষা নাম  শ্রী পরামানন্দ দাস গোস্বামী) ধর্মীয় আলোচনা ও ভগবত পাঠ শুনতে হাজারো ভক্ত শ্রোতাদের ভিড় জমেছে। ৩ দিনের ধর্মীয় আলোচনা ও শিশু পাঠককে দেখতে মদনমোহান মন্দির চত্বর এখন কানায় কানায় পূর্ণ। নিত্যানন্দ এ আলোচনার প্রধান আলোচক। ভিড় সামাল দিতে মাল্টিমিডিয়া দিয়ে বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন আয়োজকরা।

বুধবার আলোচনা শেষ হবে। ৬ বছর ৭ মাস বয়সী শিশুর মুখে উপনিষদ থেকে মন্ত্রপাঠ, সংস্কৃত শুদ্ধ উচ্চারণ শুনে তাজ্জব বনে যান উপস্থিত ভক্তরা। সাতক্ষিরা তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছরই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া এ শিশুর  মুখে নিজ ধর্মের কৃষ্ণ তত্ত্ব, বৈষব তত্ত্ব, তুলসি তত্ত্ব আলোচনার পাশপাশি কোরআন ও বাইবেলসহ অন্য ধর্মের ব্যখ্যা শুনতে ভোলার মদন মোহন মন্দির চত্বরে হাজারো মানুষেল ঢল নামে। প্রধান আলোচকই হচ্ছেন ওই শিশু। নিত্যানন্দের বাবা সুশীল কুমার সরকার ও মা রাধা রানী সরকার ছেলের পাশে থেকে উৎসাহ দিচ্ছেন।

সোমবার সুশীল কুমার সরকার জাগো নিউজকে জানান, তার একমাত্র সন্তান নিত্যানন্দ ৪ বছর বয়স থেকেই অলৌকিকভাবে ধর্ম জ্ঞান লাভ ও তা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। মানুষকে শান্তির জন্য ধর্মীয় বিধান ব্যাখ্যা করছে। জ্ঞানের আলো জাগাতেই নিত্যানন্দের সাধনা।

সুশীল জানান, তিনি এক সময় মুদি ব্যবসা করলেও এখন ছেলের সঙ্গেই সময় দিচ্ছেন। তিনি অতি সাধারণ মানুষ। তার লক্ষ্য মহা প্রভূর একটি মন্দির স্থাপন করা। এজন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদিকে শিশু নিত্যানন্দ  দীক্ষা নেয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে শ্রী শ্রী পরামান্দ দাস গোস্বামী।

মদন মোহন মন্দির কমিটির সম্পাদক অসীম সাহা জাগো নিউজকে জানান, মন্দির চত্বরে ভক্ত ও শ্রোতাদের ভিড় সামাল দেয়া যাচ্ছে না। তাই  মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বড় পর্দায় সরাসরি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে সরাসরি দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ব্যাপী ওই শিশুর ধর্মীয় আলোচনা টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় ভাক্তদের পাশপাশি ইসলাম ধর্মের অনেক অনুসারীও  ওই শিশুকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন।   

অমিতাভ অপু/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।