৭২৭ অভিবাসীকে বাংলাদেশ জলসীমানায় ঠেলে দেয়ার চেষ্টা
আন্দামান সাগরে ৭২৭ অভিবাসীসহ উদ্ধার হওয়া ভাসমান জাহাজটি সেন্টমার্টিন সংলগ্ন মিয়ানমারের জলসীমায় নোঙ্গর করেছে দেশটির নৌ-বাহিনী। ফলে অভিবাসীসহ জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমানায় ঠেলে দেয়া হতে পারে এমন শঙ্কায় নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরে ১০টি স্পিড বোট নিয়ে টহল জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি।
গত ২৯ মে মিয়ানমার জলসীমা থেকে আটক এসব অভিবাসীকে বুধবার মংডু শহরে আনা হবে জানিয়ে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) মঙ্গলবার বিজিবিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি মংডু না নিয়ে জলসীমায় নোঙ্গর করায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দুর্বিসন্ধি প্রকাশ পাচ্ছে। আর এ কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যৌথ-বাহিনী।
কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. ডিকসন চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে সেন্টমাটিনের পূর্ব বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় অভিবাসী বোঝায় একটি বড় জাহাজ নোঙ্গর অবস্থায় দেখা গেছে। তবে জাহাজের উপরে কোনো লোকজন দেখা যায়নি। তবে এটি গত শুক্রবার মিয়ানমার জলসীমায় সাগরে ভাসমান উদ্ধার ৭২৭ অভিবাসীসহ উদ্ধার জাহাজটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর করা উদ্ধার অভিবাসী বোঝায় জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমানায় ঠেলে দেওয়া হলে তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে কোস্টগার্ড। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর জাহাজ সাঙ্গু ও কোস্টগার্ড হাই স্পিডবোট এবং বিজিবির টহলদল বাংলাদেশি জল সীমানায় অবস্থান করছে।
সেন্টমাটিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, বুধবার দুপুরে সেন্টমাটিনের পূর্বপাশ্বে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমানার মাঝখানে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ অভিবাসী নিয়ে নোঙ্গর করে রাখতে দেখা গেছে। রাতের আধারে কিংবা সুবিধামতো সময়ে মিয়ানমার নৌ-বাহিনী জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপরে বিজিবি টেকনাফ-৪২ ব্যাটালিয়ন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী জানান, নাফনদী জুড়ে বিজিবি সর্তক অবস্থানে রয়েছে। ১০টি স্পিড বোট যোগে জোরদার রাখা হয়েছে বিজিবি টহল।
তিনি আরো জানান, ২১ মে বৃহস্পতিবার মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর হাতে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সাগরে ভাসমান জাহাজসহ উদ্ধার ২০৮ অভিবাসীর মধ্যে ২০০ জনকে বাংলাদেশি দাবি করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে তারা একটি তালিকা বিজিবির কাছে পাঠালে অসম্পূর্ণ হওয়ায় পূণঃরায় তা ফেরত পাঠানো হয়। ওই তালিকা সংশোধন করে পাঠানোর কথা বলার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠায়নি বিজিপি কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান পিএসসি জাগো নিউজকে জানান, আমরা সবসময় সীমান্ত প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি। সে সম্পর্কের সূত্র ধরে আটকদের ব্যাপারে বিজিপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। তাদের মাঝে যদি বাংলাদেশি থেকে থাকে আর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেসব মানুষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সরবরাহ করলে আমরা তাদের শনাক্ত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা চালাবো। তবে, অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কোনো কিছুই আমরা গ্রহণ করবো না।
উল্লেখ্য, ২৯ মে শুক্রবার মিয়ানমার জলসীমানা থেকে ভাসমান অবস্থায় নারী, শিশুসহ ৭২৭ অভিবাসী বোঝায় একটি জাহাজ উদ্ধার করে মিয়ানমার নৌ-বাহিনী।
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/একে