কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, কমেনি জনদুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭

কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি দুর্গতরা। ফলে কমেনি জনদুর্ভোগ। জেলার দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছেনি খাদ্য সহায়তা। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়া এসব অসহায় মানুষদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রোববার কুড়িগ্রামে যাচ্ছেন।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী দুপুরে দিনাজপুর থেকে হেলিকপ্টার যোগে রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন খেলার মাঠে হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম ফেরীঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পুরোপুরি পানি না নামা পর্যন্ত ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের সুযোগ নেই।

kurigram2

সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসা সেবা দিতে ৯০টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওর স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ আছে। ভয়াবহ বন্যার কারণে পানিতে ডুবে গেছে ৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক। পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ক্লিনিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার উপযোগী করা হবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান স্বাক্ষরিত জেলা কন্ট্রোল রুম থেকে প্রেরিত তথ্যে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের ৮২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এক লাখ ১৭ হাজার ৩০২টি। যার লোক সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮২০ জন। এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। একজন নিখোঁজ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ৪৪ কি.মি. ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের সংখ্যা ৬০৭টি। কাঁচা ও পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪২ দশমিক ৫০ কি.মি. মিটার। নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ২ হাজার ৬৯৪টি বাড়ি। এ সময়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচু রাস্তা ও বাঁধে আশ্রিত লোক সংখ্যা এক লাখ ১৭০জন।

ত্রাণ শাখা থেকে জানানো হয়, বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইতিমধ্যে ৮৫১ দশমিক ৩৮০ মেট্রিক টন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। জিআর ক্যাশ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এখনও ১৫০ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ৯ লাখ টাকা মজুদ আছে।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।