চকরিয়ায় মানবপাচার মামলায় নারীসহ ২ জন গ্রেফতার


প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ০৪ জুন ২০১৫

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাগর পথে মালয়েশিয়ায় নেয়ার সময় নিখোঁজ ৩ যুবকের পক্ষে কক্সবাজার মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় চকরিয়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন, ওই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ হোছাইনের স্ত্রী ফটো বেগম (৩৮) ও আবদুর রহিমের ছেলে কামাল হোছাইন (২৪)।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকার নিখোঁজ কৃষক মোক্তার আহমদ প্রকাশ মনিরের স্ত্রী তছলিমা বেগম গত ১ জুন কক্সবাজার মানব পাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে ৭ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলাটি এজাহারভুক্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য আদালত তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, মামলার আসামিরা হলেন, কোনাখালী ইউনিয়নের মরং ঘোনা এলাকার মৃত ছালেহ আহমদের ছেলে আবদু রহিম, তার চার ছেলে প্রবাসী মোহাম্মদ হোছাইন, আহমদ হোছাইন, জামাল হোছাইন, কামাল হোছাইন, মোহাম্মদ হোছাইনের স্ত্রী ফটো বেগম ও মেয়ে সাদেকা জন্নাত।

ওসি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় রুজু করার পর বৃহস্পতিবার সকালে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে ফটো বেগম ও কামাল হোছাইনকে গ্রেফতার করেন। বিকেলে তাদেরকে উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কোণাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ হোছাইন, আহমদ হোছাইন, জামাল হোছাইন মালয়েশিয়ায় থাকেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে চকরিয়া, পেকুয়া ও বাঁশখালী এলাকা থেকে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেয়ার কথা বলে বেকার যুবক ও স্বল্প আয়ের লোকজনদের সাগর পথে পাচার করে আসছেন।

তারা একইভাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনাখালী এলাকার মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে মহিউদ্দিন, আমির হোছনের ছেলে মোক্তার আহমদ প্রকাশ মানিক ও নুরুল কবিরের ছেলে মনির আহমদকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে একটি ট্রলারে তুলে দেন। ট্রলারে উঠার পর তাদেরকে ৪০ দিন সাগরে ভাসিয়ে রেখে নির্যাতন করে বাড়িতে তাদের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ আদায় করেন। কিন্তু সাগরে আটক রেখে টাকা পরিশোধ করার পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে নিখোঁজ কৃষক মোক্তার আহমদ প্রকাশ মানিরের স্ত্রী তছলিমা বেগম গত ১ জুন কক্সবাজার মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে ৭ জন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে এ মামলাটি রুজু করেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।