ত্রাণের নৌকা ভেবে বৃদ্ধার হাউমাউ কান্না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ২০ আগস্ট ২০১৭

‘দশ-বারো দিন ধইরা ঘরে পানি বাজান। গুইদা গুইদা (ছোট ছোট) পুলাপান নিয়া খুব কষ্টে আছি। আমারে বাঁচান। আমারে কিছু সাহায্য করেন। গুইদা ছাওয়াল (ছেলে) ডারে দুধ খাওয়াতি পারি না। এক মুঠো মোটা চাইলের ভাত চাই বাজান’।

বন্যার খবর সংগ্রহের সময় ত্রাণের নৌকা মনে করে এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বলে বৃদ্ধা খবিরুন বেগম হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের কৈল গ্রামে এই নারীর বাস।

ঘরে তার কোমর সমান পানি। সেখানে দুই নাতিকে নিয়ে বাঁশের মাচার ওপর বসে আছেন। চকির কোনায় একটি ছাগল বাঁধা।

বিধবা খবিরুন বেগম জানান, পাঁচ সন্তান রেখে রোজার সময় তার ছেলের বউ মারা গেছে। কোলের ছেলেটির বয়স এক বছর। এই বয়সে মায়ের দুধ খেয়ে বড় হওয়ার কথা তার। কিন্তু দুধ তো দূরের কথা দু’বেলা দু’মুঠো ভাতই দেয়াই এখন কষ্টের।

অন্য সময় ছেলের কৃষিকাজ আর নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু বন্যার কারণে দুজনের কাজই বন্ধ। তাই বর্তমানে চরম কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির।

jagonews24

এ কারণে সাহায্যের জন্য কাকুতি-মিনতি করছিলেন তিনি। কথার ফাঁকে ফাঁকে কাপড়ের আঁচল দিয়ে চোখের পানিও মুচছিলেন বৃদ্ধা খবিরুন।

পাশের বাড়ির আফিছা বেগম জানান, পানিতে হাবুডুবু খেলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণসহায়তা পাননি। রান্না করার অবস্থা নেই। চিড়া-মুড়ি খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

ফুলমালা ও আফছার বেগম জানান, বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। নিজেরা খাবেন নাকি গরু-ছাগলরে খাওয়াবেন। তাই অর্ধেক পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দুটি কোরবানির গরু আছে। ঋণ করে সেই গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে।

বাঁচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ জানান, যারা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তা সত্য। কারণ চাহিদার তুলনায় ত্রাণ সামগ্রী মিলছে খুবই কম। এ কারণে সবার পাশে দাঁড়াতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রিতদের দু’বেলা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে জেলার দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা এখন বন্যাকবলিত। পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধলক্ষাধিক ঘরবাড়ি। এসব এলাকায় টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। চরাঞ্চলগুলোতে এ সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ।

গত দুদিন ধরে যমুনা নদীর পানি মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে কমতে শুরু কররেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পানি বেড়েছে জেলার অভ্যন্তরীণ কালীগঙ্গা, ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদীতে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বি.এম খোরশেদ/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।